মার্কিন ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা আর দেশীয় চাহিদার জোরে ২০২৬ সালের নভেম্বরে সরবরাহযোগ্য সয়াবিন ফিউচার্সের দাম আগস্টের মাঝামাঝি থেকে বুশেলপ্রতি প্রায় ১.৫০ ডলার বেড়েছে। কিন্তু সেপ্টেম্বরে ইউএসডিএর সরবরাহ-চাহিদা প্রতিবেদন আপাতত বাজারে একটি স্বল্পমেয়াদি চূড়া তৈরি করেছে—ফার্ম প্রোগ্রেসের কলামে লিখেছেন টোটাল ফার্ম মার্কেটিংয়ের বিশ্লেষক নাওমি ব্লম (Naomi Blohm)।
প্রতিবেদনে জাতীয় ফলনের হিসাব সামান্য বেড়ে একরপ্রতি ৫২.৮ বুশেল, মোট উৎপাদন প্রায় ৪৫৪ কোটি বুশেল। ক্রাশিং ২৭৮ কোটি বুশেলে অপরিবর্তিত, রপ্তানি সামান্য বেড়ে প্রায় ১৬৯ কোটি বুশেল, আর মৌসুম-শেষের মজুত আগস্টের ৩২ কোটি থেকে কমে ৩১ কোটি বুশেল। সংখ্যাগুলো প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা মুনাফা তুলে নেন; দৈনিক চার্টে ফিউচার্স 'বিয়ারিশ কি রিভার্সাল' দেখায়। ব্লমের হিসাবে সমর্থন ১৩ ডলারে, বাধা ১৩.৩৫ ডলারে।
তাঁর মতে, ৩১ কোটি বুশেলের মজুত ঐতিহাসিক মানদণ্ডে মন্দাসূচক নয়; চাহিদা শক্ত থাকায় দাম আপাতত সমর্থন পাবে, যদিও ফসল কাটার চাপ স্বল্পমেয়াদে উত্থান আটকে রাখতে পারে।
বড় প্রশ্ন দক্ষিণ আমেরিকা। ইউএসডিএ ব্রাজিলের ২০২৬-২৭ মৌসুমের উৎপাদন ধরেছে ১৮ কোটি ৬০ লাখ টন; ব্রাজিলের পূর্বাভাস সংস্থা কোনাব (Conab) কিছুটা কম—৪ কোটি ৯৩ লাখ হেক্টরে (আগের মৌসুমের চেয়ে ১.৪ শতাংশ বেশি জমি) ১৮ কোটি ১৬ লাখ টন। ব্রাজিলের রপ্তানি ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখ টন, যার বড় অংশ যাবে চীনে। সেখানে উৎপাদনে হোঁচট খেলে ফিউচার্স চড়ার কারণ পাবে; স্বাভাবিক মৌসুম হলে ১২ কোটি ৪০ লাখ টনের বৈশ্বিক মজুতকে যথেষ্ট মনে হবে, যদিও মজুত-ব্যবহার অনুপাত নিচের দিকে।
ব্লম চারটি বিষয়ে নজর রাখতে বলেছেন: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মার্কিন সফরের আগে চীন আরও সয়াবিন কেনে কি না, নাকি শেষ মুহূর্তের বিবাদে বৈঠকই বাতিল হয়; রেকর্ড 'লং' অবস্থানে থাকা ফান্ডগুলো তৃতীয় প্রান্তিক শেষের আগে মুনাফা তোলে কি না; ৩০ সেপ্টেম্বরের ইউএসডিএ ত্রৈমাসিক মজুত প্রতিবেদন; আর মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিনের দক্ষিণ আমেরিকার আবহাওয়া।
তাঁর উপসংহার: এই বাজারকে আগাম আন্দাজ করা যায় না। স্বল্পমেয়াদে চুপচাপ সতর্ক পর্ব আসতে পারে, আবার ব্রাজিলের আবহাওয়া বিগড়ালে ২০২৭-এর দিকে জোরালো উত্থানও সম্ভব—তাই কৃষকের দরকার পূর্বাভাস নয়, কৌশল।
সূত্র: Farm Progress




মন্তব্য
(০)