কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে গত আট বছরে প্রায় ছয় হাজার একর প্যারাবন কেটে ৫০টি চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে। দ্বীপটি ২০০৬ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করেছিল, আইন অনুযায়ী যেখানে মাটি, পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের যেকোনো পরিবর্তন বা বাণিজ্যিক রূপান্তর নিষিদ্ধ।
প্যারাবন উজাড়ের শুরু ২০১৭ সালে। ইকো ট্যুরিজম পার্ক করার জন্য সোনাদিয়ার ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর বনভূমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার আট হাজার একরই ছিল প্যারাবন। জমি হস্তান্তরের পর বন বিভাগের সোনাদিয়া কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়, টহলও থেমে যায়; পার্কের কাজ এগোয়নি, কিন্তু গত বছর পর্যন্ত বন কাটা চলেছে। পরে বেজার প্রকল্প বাতিল করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সোনাদিয়া রক্ষায় নতুন প্রকল্প নিয়েছে।
প্যারাবন ধ্বংস ও দখলের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ একাধিক মামলা করেছে, আসামি শতাধিক। সমকালের অনুসন্ধানে স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা এতে জড়িত, তাই তাঁরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবী এস হাসানুল বান্না জানান, উচ্চ আদালত গত বছরের ২৩ অক্টোবর সোনাদিয়া, ঘটিভাঙ্গা, তাজিয়াকাটা ও হামিদার দিয়ায় ম্যানগ্রোভ ধ্বংস বন্ধ ও অবৈধ ঘের উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে বঙ্গোপসাগরের মোহনার এ দ্বীপ লাল কাঁকড়া, কাছিম ও হাজারো উপকূলীয় পরিযায়ী পাখির আবাস। বিশেষ করে মহাবিপন্ন চামচঠুঁটো বাটান বা স্পুন-বিলড স্যান্ডপাইপারের জন্য সোনাদিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হিসাবে, সোনাদিয়ার প্যারাবনে একসময় ২৫০ প্রজাতির মাছ, ১৫০ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ৫০ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪০ প্রজাতির চিংড়ি, ১৭০ প্রজাতির পাখি, ১৫ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ ও তিন প্রজাতির ডলফিনসহ নানা প্রাণী ছিল, যার অর্ধেকের বেশি এখন আর নেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা নদী গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ শুধু উপকূলীয় বন নয়, দেশের অন্যতম মূল্যবান প্রতিবেশ ব্যবস্থার ভিত্তি; পানির ওপরে যেমন, মাটির নিচেও তেমনি প্রাণবৈচিত্র্য আছে। তাঁর মতে, যেকোনো মূল্যে প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের করা বন্ধ করতে হবে।
ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)