মাত্র একদিন পরই উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটে গরু নিয়ে এসেছেন হাজারো ব্যাপারী। তবে টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে তাদের ঈদের আশা। কাদা-পানিতে ভরে গেছে হাটের বড় অংশ, কমেছে ক্রেতার উপস্থিতিও। ফলে গরু বিক্রি না হওয়ায় হতাশায় সময় কাটছে অনেক ব্যাপারীর।
বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর শাহজাহানপুর ও কমলাপুর পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে কোথাও জমেছে কাদা, কোথাও পানি। বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শেডের নিচে গরু বেঁধে রাখা হলেও অনেক পশু ভিজে যাচ্ছে। হাটজুড়ে ব্যাপারীদের চোখেমুখে উদ্বেগ স্পষ্ট। কেউ গরুর শরীর শুকনো রাখতে খড় বিছাচ্ছেন, আবার কেউ বৃষ্টির পানি সরাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শেরপুর থেকে কমলাপুর হাটে ১৯টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী আবদুল জলিল। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনি মাত্র তিনটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। এই গরু তিনটিও লোকসানে বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন এই ব্যাপারী।
তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে মাথার ওপর ছাউনি তৈরি করার জন্য একটি কাউন্টার থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে একটি সাপল ভাড়া নিয়েছিলাম। বলে ছিলো সাপল ফেরত দিলে টাকা দিয়ে দেবে। কিন্তু এখন সাপল ফেরত দিলেও টাকা দিচ্ছি না। এই সাপলের দাম কি এক হাজার টাকা বলেন! মানুষের কোনো বিবেক নেই।
আবদুল জলিল বলেন, দুই দিন ধরে বৃষ্টি। মানুষ হাটে আসছে কম। যারা আসছে তারা শুধু দেখে চলে যাচ্ছে। ১৯টা গরুর মধ্যে মাত্র তিনটা বিক্রি করতে পারছি। ট্রাক ভাড়া, খাবার খরচ, শ্রমিক সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন গরু বিক্রি না হলে বড় ক্ষতি হবে।
একই হাটে নাটর থেকে এসেছেন ব্যাপারী লিটন আহমেদ। তিনি বলেন, ২২টি গরু নিয়ে এসেছি। একটাও বিক্রি করতে পারিনি। যে গরু ২ লাখ টাকা দিয়ে কিনে এনেছি, তার দাম বলছে ১ লাখ টাকা। এমন দাম বললে বিক্রি কিভাবে করবো।
এমন পরিস্থিতি কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে গরুর মাঠে কাদা পানি হয়ে গেছে। মানুষ কম আসছে। আর যারা আসছে দাম অনেক কম বলছে। ক্রেতারা এমন দাম বললে তো গরু পাবে না।
তিনি বলেন, এখন কপালে যা আছে তাই হবে। গরু প্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে তো বিক্রি করা সম্ভব না। বিক্রি করতে না পারে দেশে (গ্রামে) নিয়ে চলে যাবো। আমাদের দেশে নিয়ে বিক্রি করলে ৫ হাজার টাকা করে লোকসান হবে। এতো সুন্দর সুন্দর গরু নিয়ে এসেছি। এরপর বিক্রি করতে না পারলে এই ব্যর্থতা তো আমাদের না, এই ব্যর্থতা ক্রেতাদের।
পাবনা থেকে গরু নিয়ে আসা শাকিল নামের আর এক ব্যাপরী বলেন, বৃষ্টিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। কাদাপানিতে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছি। রাতে ঘুমাতে পারছি না। আমি ১৫টা গরু এনেছিলাম। ১১টা বিক্রি করেছি। প্রতিটি গরুতে ১৫২০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এখনো ৪টা গরু আছে। যেগুলো
ময়মনসিংহ ত্রিশাল থেকে গরু নিয়ে আসা ফয়সাল নামের আর একজন বলেন, এবার কোরবানির বাজার ভালো না। যে গরুর দাম দেড় লাখ টাকা, ক্রেতারা তার দাম বলছেন এক লাখ টাকা। আগামীকাল ঈদ,এখন পর্যন্ত মাত্র একটা গরু বিক্রি করতে পেরেছি। গরু নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রাতে বৃষ্টি হলে ঘুমানো যায় না। গরু ভিজে গেলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
রাত ১২টার দিকে ১৫টা গরু নিয়ে হাটে আসা চুয়াডাঙ্গার ব্যাপরী মো. মিলন বলেন, ১৫টা গরু নিয়ে হাটে এসেছি। এখনো একটাও বিক্রি করতে পারিনি। সকালে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে ক্রেতারা আসতে পারেননি। এখন আল্লাহ ভরস, দেখি কি হয়।
চুয়াডাঙ্গা থেকে গরু নিয়ে আসা শাহীন মোল্লা নামের আর এক ব্যাপরী বলেন, এবার বৃষ্টির কারণে আমার তো সব ব্যাপারী বিপদে আছেন। লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা মনে করছেন আমরা দাম বেশি চাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের কেনায় বেশি। ব্যাপারীরা এবার ঢাকায় গরু নিয়ে এসে লাভ করতে পারছে না।
এমএএস/এমএএইচ/





মন্তব্য
(০)