শুষ্ক মৌসুমে কাদা শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাওয়া ডোবার তলায় হাত দিলে মাঝেমধ্যে জ্যান্ত শিং মাছ উঠে আসে। পানিহীন মাটির নিচে মাসের পর মাস থেকেও এ মাছ কীভাবে বাঁচে, তা নিয়ে বিজ্ঞানচিন্তায় লিখেছেন মাহমুদ নেওয়াজ।
রহস্যের মূলে মাথার নিচ থেকে লেজের দিকে যাওয়া একটি লম্বা নলাকার বায়ুথলি, যাকে বলে রেসপিরেটরি স্যাক। বেশির ভাগ মাছ শুধু ফুলকা দিয়ে পানি থেকে অক্সিজেন নেয়, কিন্তু শিং এই অঙ্গ দিয়ে সরাসরি বাতাস থেকেও শ্বাস নিতে পারে। তাই জলাশয়ের অক্সিজেন ফুরোলে বা পানি পচে গেলেও তার তেমন ক্ষতি হয় না। একই গোত্রের মাগুরেরও বাতাস থেকে শ্বাস নেওয়ার অঙ্গ (আর্বোরেসেন্ট অর্গান) আছে।
গ্রীষ্মের শুরুতে ছোট খাল-বিল শুকাতে থাকলে শিং কাদার নিচে গর্ত খুঁড়ে ঢুকে যায়, কখনো প্রায় এক হাত গভীরে। বিজ্ঞানীরা একে বলেন এস্টিভেশন বা গ্রীষ্মনিদ্রা। হৃৎস্পন্দন কমে, বিপাক ধীর হয়, জমা চর্বি থেকে আসে শক্তি; খাবার ছাড়াই কেটে যায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ। প্রথম বৃষ্টি নামলেই আবার নড়ে ওঠে মাছটি।
গায়ের পুরু আঠালো মিউকাস শুকনো মাটিতেও শরীরের পানি ধরে রাখে, রক্তের কিছু প্রোটিন কোষ শুকিয়ে যাওয়া ঠেকায়, কিডনি পানির অপচয় প্রায় শূন্যে নামায়। শরীরের বর্জ্য তখন বিষাক্ত অ্যামোনিয়া না থেকে তুলনামূলক নিরাপদ ইউরিয়া হিসেবে জমা থাকে। বুকের দুই পাখনা মাটিতে গেঁথে শরীর সাপের মতো বাঁকিয়ে শিং ডাঙা পেরিয়ে এক ডোবা থেকে আরেক পুকুরেও যেতে পারে; স্থানীয়রা একে বলেন হাঁটা মাছ।
পাখনার গোড়ার বিষাক্ত কাঁটা শিংয়ের আত্মরক্ষার শেষ অস্ত্র; এর খোঁচায় অনেকক্ষণ জ্বালা করে বলে গ্রামের মানুষ সাবধানে ধরেন। জমি চাষের সময় মাটির নিচ থেকে জ্যান্ত শিং বেরিয়ে আসা কৃষকদের কাছে পুরোনো দৃশ্য। লেখকের মতে, অনিয়মিত বৃষ্টি আর দীর্ঘ খরা বাড়তে থাকায় এমন সহনশীল প্রজাতি গবেষকদের কাছে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে; এর দেহের প্রোটিন ও এনজাইম নিয়ে গবেষণা চলছে।
লেখাটি বিজ্ঞানচিন্তায় প্রকাশিত; লেখক মাহমুদ নেওয়াজ, সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। লেখকের তথ্যসূত্র ফিশবেজ।
ছবি: দিব্য দত্ত / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তা





মন্তব্য
(০)