মরুভূমির শহর আবুধাবির আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেও একটি স্থাপনা দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সময় মুগ্ধ করে রাখে: শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ। শুভ্র মার্বেলের বিশাল গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার, রঙিন পাথরের কারুকাজ আর সূক্ষ্ম ইসলামি অলংকরণের এই মসজিদ নিয়ে লিখেছেন ডেইলি বাংলাদেশের মোহাম্মদ মামুন কবীর।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের উদ্যোগে মসজিদটির নির্মাণ শুরু হয় ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর, আর ২০০৭ সালের ঈদুল আজহায় এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে নামাজ শুরু হয়। নকশায় মিলেছে মরক্কো, মুঘল, অটোমান, মামলুক ও ফাতিমীয় স্থাপত্যধারা। আমিরাতের পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী মসজিদে ৮২টি গম্বুজ আছে।
প্রধান নামাজের হলের ওপরের কেন্দ্রীয় গম্বুজটি সবচেয়ে বড়, ব্যাস প্রায় ৩২ দশমিক ৬ মিটার, উচ্চতা প্রায় ৮৪ মিটার। ভেতরে কোরআনের আয়াত নানা আরবি ক্যালিগ্রাফি শৈলীতে সাজানো। চার কোণের চারটি মিনারের প্রতিটির উচ্চতা প্রায় ১০৬ থেকে ১০৭ মিটার; বর্গাকার, অষ্টভুজ ও বৃত্তাকার স্তরের সমন্বয়ে বিভিন্ন যুগের স্থাপত্যের ছাপ আছে এগুলোতে।
কেন্দ্রীয় প্রাঙ্গণ বা ‘সাহান’ প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ বর্গমিটারের, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩১ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মেঝেতে ইতালি, ভারত, গ্রিস ও চীনসহ নানা দেশের মার্বেলে ফুলের বিশাল নকশা; মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্যে এতে ৯০ লাখের বেশি মোজাইক টুকরা ব্যবহার হয়েছে। ব্রিটিশ শিল্পী কেভিন ডিন এই ফুলের নকশার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
মসজিদের চারপাশের প্রতিফলন-পুকুরে দিনে সাদা গম্বুজ ও মিনারের ছায়া পড়ে, সূর্যাস্তের পর আলোকসজ্জায় পানিতে প্রতিফলিত মসজিদের দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
ছবি: Dubaideena / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)