উইসকনসিনে সৌর প্যানেলের নিচে লাগানো চারণ-ঘাস মৌসুমের শুরুতে খোলা জমির চেয়ে কম ফলেছে, কিন্তু তৃতীয় কাটাইয়ে তাকে ছাড়িয়ে গেছে; আর সূর্য-অনুসরণকারী প্যানেলের নিচের আলফালফা পূর্ণ রোদের আলফালফার চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে। University of Wisconsin-Madison (ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসন) এক্সটেনশনের একটি পরীক্ষার প্রথম বছরের ফল এটি; লক্ষ্য—সৌরকেন্দ্রে ভেড়া চরানোকে কেবল ঘাস-ছাঁটার চুক্তি নয়, সত্যিকারের গোখাদ্য উৎপাদনে পরিণত করা।
সৌর প্যানেলের নিচের জমির বেশির ভাগই এখনো কৃষিজমি হিসেবে জোনভুক্ত, আর প্যানেলের নিচে চাষ—যাকে বলা হয় অ্যাগ্রিভোল্টাইকস—ছড়িয়ে পড়ছে: দক্ষিণ-পশ্চিমে কম পানিতে টমেটো ও মরিচ, দক্ষিণে সৌরখামারে ভেড়ার পাল, এমনকি ম্যাসাচুসেটসে ক্র্যানবেরির জলাভূমির ওপর প্যানেল। গরুর রাজ্য উইসকনসিনে ভেড়াই এগিয়ে, কারণ বিদ্যুৎ কোম্পানি ও ডেভেলপাররা গরুকে প্যানেলের জন্য বেশি ঝুঁকি মনে করেন। প্রচলিত ব্যবস্থায় চারণকারীকে টাকা দেওয়া হয় গাছপালা ছোট রাখতে ও বাতাস চলাচল খোলা রাখতে; জমিতে থাকে টার্ফ ঘাস বা পরাগায়নকারীদের জন্য বাছাই করা মিশ্রণ, খাদ্যমান বিবেচনায় নয়।
পরীক্ষাটি চলছে দক্ষিণ-পূর্ব Dane (ডেন) কাউন্টির Kegonsa (কেগনসা) গবেষণা ক্যাম্পাসে Alliant Energy-র ১৬ একরের একটি সৌরকেন্দ্রে, যেখানে ব্যতিক্রমীভাবে চার ধরনের র্যাকিং আছে—দুই ব্যবধানে স্থির-ঢাল প্যানেল, সূর্য-অনুসরণকারী একক-অক্ষ ট্র্যাকার এবং একটি উঁচু অ্যারে—ফলে একই ঘাসের মিশ্রণ ভিন্ন ভিন্ন ছায়ায় পরীক্ষা করা যায়। ২০২৫ সালের বসন্তে চারটি ব্যবস্থায় প্লট বসানো হয়: অর্চার্ডগ্রাস, কেন্টাকি ব্লুগ্রাস ও লাল ক্লোভার; মেডো ফেস্কিউ, কেন্টাকি ব্লুগ্রাস ও লাল ক্লোভার; আলফালফা; এবং নিয়ন্ত্রণ হিসেবে ডেভেলপারের প্রমিত মিশ্রণ।
এ বছরের তিন কাটাই মিলিয়ে প্যানেলের নিচের প্লট একরপ্রতি খোলা জমির ৭০ থেকে ৮৮.৫ শতাংশ শুষ্ক পদার্থ দিয়েছে। তবে ব্যবধান মৌসুমের সঙ্গে কমেছে: প্রথম কাটাইয়ে খোলা জমির ৭৭ শতাংশ, দ্বিতীয়তে ৮২ শতাংশ, তৃতীয়তে ১২২ শতাংশ। একক-অক্ষ ট্র্যাকারের নিচের প্লট ছিল সবচেয়ে স্থিতিশীল—তৃতীয় কাটাই প্রথম কাটাইয়ের গড়ে ৭২ শতাংশ, যেখানে খোলা জমিতে ৫৮ শতাংশ।
অর্চার্ডগ্রাসের চেয়ে অগভীর শিকড়ের মেডো ফেস্কিউ সংকীর্ণ স্থির-ঢাল ব্যবধান ও ট্র্যাকারের ছায়ায় সবচেয়ে লাভবান হয়েছে, বিশেষত তৃতীয় কাটাইয়ের আগের শুকনো সপ্তাহগুলোতে। ছায়ার প্লট দেরিতে পরিণত হয়েছে, ঘাসের লিগনিন কম ও আঁশের পরিপাচ্যতা বেশির প্রবণতা দেখা গেছে, যদিও অপরিশোধিত প্রোটিন ও অ্যাসিড ডিটারজেন্ট ফাইবারের ফল মিশ্র।
লেখকের মতে, উইসকনসিনের সবচেয়ে বড় সৌরকেন্দ্রগুলো চরানোর মতো ভেড়া রাজ্যে নেই; কিন্তু কয়েক ডজন একরের কেন্দ্রের সংখ্যা হাজার একরের কেন্দ্রের চেয়ে অনেক বেশি, আর সেখানে উৎপাদনশীল ঘাস লাগিয়ে চারণকারী গাছপালা-ব্যবস্থাপনার চুক্তি রেখেও পশুর সংখ্যা বাড়াতে পারেন। ফলগুলো ইঙ্গিত দেয়, প্যানেলের ছায়া শীতল-মৌসুমি ঘাসের গ্রীষ্মকালীন মন্দা কিছুটা ভোঁতা করে ফলন স্থির রাখে। লেখক Will Fulwider (উইল ফুলওয়াইডার) ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের আঞ্চলিক শস্য শিক্ষক; ছবি ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের।
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)