যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কৃষি কমিটি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ফার্ম বিল ‘অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাক্ট অব ২০২৬’ দলীয় লাইনে ১২–১১ ভোটে এগিয়ে দিয়েছে। গত মাসে কমিটি বিলটি পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছিল; এবার তিন মাস পর সিনেটে ফেরা কেন্টাকির সিনেটর মিচ ম্যাককনেল (Mitch McConnell) উপস্থিত থেকে পক্ষে ভোট দেন।
বেশির ভাগ কৃষক সংগঠন ভোটকে স্বাগত জানিয়ে পূর্ণ সিনেটকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছে। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জিপি ডুভাল (Zippy Duvall) বলেন, কংগ্রেস প্রায় এক দশক ধরে কোনো ফার্ম বিল পাস করেনি এবং এই দশ বছরে ২ লাখের বেশি পারিবারিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এ সপ্তাহে শতাধিক কৃষক ও পশুপালক দ্বিদলীয় বিলের দাবিতে ওয়াশিংটনে গেছেন বলে তিনি জানান।
ইথানল ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। বিলটি সারা দেশে সারা বছর ই১৫ জ্বালানি বিক্রির স্থায়ী অনুমতি ফেডারেল আইনে যুক্ত করবে—ন্যাশনাল কর্ন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, গ্রোথ এনার্জি, রিনিউয়েবল ফুয়েলস অ্যাসোসিয়েশন, আইওয়া রিনিউয়েবল ফুয়েলস অ্যাসোসিয়েশন ও ন্যাশনাল সরগাম প্রোডিউসার্স সবাই এ বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনসিজিএ-র প্রেসিডেন্ট জেড বাওয়ার (Jed Bower) ২০২৬ সালের ভুট্টাকে ‘আমাদের এ পর্যন্ত বোনা, ফলানো ও কাটা সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফসল’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এ বছরই বিল ও ই১৫ আইনে পরিণত হওয়া দরকার।
সয়াবিন, গম, দুগ্ধ, জোয়ার, তাজা ফল-সবজি, সার ও কৃষিঋণ খাতের সংগঠনগুলোও বিলের পক্ষে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হুইট গ্রোয়ার্স সতর্ক করেছে, পরবর্তী পাঁচ বছরের বিল নিয়ে চার বছরের বিতর্কের পর কমিটির পদক্ষেপ ‘পথের শেষ হওয়া চলবে না’। ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন গরুর মাংসে বাধ্যতামূলক উৎস-দেশ লেবেলিংকে ‘বড় জয়’ বললেও জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান উপকরণ ব্যয় আর আধুনিক কৃষির সঙ্গে বেমানান নিরাপত্তা জালের সংকট এ বিল থামাতে পারবে না।
সবাই খুশি নন। মিট ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, তারা বাধ্যতামূলক উৎস-দেশ লেবেলিং (MCOOL, এমকুল) বিধানের বিরোধিতা চালিয়ে যাবে; তাদের উদ্ধৃত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এতে ভোক্তাদের গরুর মাংসের খরচ বছরে ৮৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাড়বে, আর আগেরবার নিয়মটি চালু থাকাকালে কানাডা ও মেক্সিকো ১০০ কোটি ডলারের বেশি পাল্টা শুল্কের অধিকার পেয়েছিল।
ন্যাশনাল ইয়াং ফার্মার্স কোয়ালিশন হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, কমিটি আবারও তরুণ ও নবীন কৃষকদের জমি পাওয়ার সংকট এবং পুষ্টি কর্মসূচির তহবিল ফেরানোর প্রশ্ন এড়িয়ে বিল এগিয়ে দিয়েছে; ন্যাশনাল ফ্যামিলি ফার্ম কোয়ালিশন জানায়, এপ্রিলে খামার দেউলিয়াত্ব ছয় বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে, অথচ আইনপ্রণেতারা পুরোনো নীতিই আওড়াচ্ছেন।
প্রতিনিধি পরিষদ ইতিমধ্যে নিজস্ব ফার্ম বিল পাস করেছে, তাই পরের ধাপ সিনেটের পূর্ণ অধিবেশনে ভোট এবং তারপর দুই কক্ষের সংস্করণ মেলানো—তবেই কিছু প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছাবে। প্রতিবেদন: মারায়া স্কোয়ার (Mariah Squire)।
সূত্র: Successful Farming




মন্তব্য
(০)