আধুনিক বাজারে মানুষের চুল উইগ ও হেয়ার এক্সটেনশনের কাঁচামাল, আর দৈর্ঘ্য, ঘনত্ব ও রং দেখে এর দাম ঠিক হয়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের দেহ বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এমন ব্যাখ্যা দিয়ে প্রথম আলোয় লিখেছেন ফয়জুল্লাহ রিয়াদ। সুরা বনি ইসরাইলের ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তিনি আদম সন্তানকে মর্যাদা দিয়েছেন; লেখকের মতে এই মর্যাদা দেহ ও দেহের অংশেও প্রযোজ্য।
ফিকহের গ্রন্থ আল-হিদায়ায় ইমাম মারগিনানি (রহ.) লিখেছেন, মানুষের চুল বিক্রি করা এবং তা দিয়ে উপকৃত হওয়া বৈধ নয়, কারণ মানুষ সম্মানিত, তার কোনো অংশকে তুচ্ছ বস্তুতে পরিণত করা যায় না। আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়াহর বরাতে লেখায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ চুলের পবিত্রতা-অপবিত্রতা নয়, মানুষের মর্যাদা; তাই শরীর থেকে আলাদা হলেও চুলের সেই সম্মান পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ অভিশাপ করেছেন সেই নারীকে, যে চুল সংযোজন করে এবং যে তা সংযোজন করায় (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৩৩)। লেখকের ব্যাখ্যা, কেউ নিজের চুল কেটে বিক্রি করুন বা সেলুন থেকে চুল কিনে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে ছাড়ুন, মূল বস্তু মানুষের চুলই থাকে; তাই উইগ বা এক্সটেনশনের জন্য মানুষের চুলের ব্যবসা বৈধ বাণিজ্যের আওতায় পড়ে না।
তবে কৃত্রিম ফাইবার বা পশুর পশমে তৈরি চুল আর মানুষের চুল এক নয়। রদ্দুল মুহতারের বরাতে লেখায় বলা হয়েছে, মানুষের চুল ছাড়া অন্য উপাদান দিয়ে চুলের সৌন্দর্য ও পরিমাণ বাড়ানোর অবকাশ আছে, এমনকি বেণিতে পশম ব্যবহারও বৈধ। অর্থাৎ মানুষের চুলের নিষেধাজ্ঞা কৃত্রিম চুলের ব্যবসার ওপর হুবহু খাটে না।
লেখকের সিদ্ধান্ত, নিজের কাটা চুল হোক বা সেলুনে জমানো চুল, মানুষের চুলকে পণ্য বানিয়ে কেনাবেচা বৈধ নয়, সৌন্দর্যের বাজার যত বড়ই হোক।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)