বীজকে এত দিন দেখা হয়েছে উদ্ভিদের ভ্রূণ, সঞ্চিত খাদ্য আর বংশবিস্তারের কাঠামো হিসেবে। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, বীজের পৃষ্ঠে ও ভেতরের টিস্যুতে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকসহ নানা অণুজীবের একটি সম্প্রদায়ও থাকে, যাকে বলা হয় বীজ মাইক্রোবায়োম। বিজ্ঞানী.অর্গে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এসব অণুজীব বীজের অঙ্কুরোদগম, চারার জীবনীশক্তি, পুষ্টি গ্রহণ, রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
সমস্যাটা হলো, প্রচলিত বীজমান পরীক্ষায় দেখা হয় অঙ্কুরোদগমের হার, জীবনীশক্তি, আর্দ্রতা, বিশুদ্ধতা ও চারার বৃদ্ধি। এসব পরীক্ষায় বীজের সঙ্গে থাকা অণুজীবের বৈচিত্র্য ও কাজ সরাসরি বোঝা যায় না। তাই প্রবন্ধে বীজ মাইক্রোবায়োমকে বীজের মানের একটি সম্ভাব্য নতুন জৈবিক সূচক হিসেবে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে মাপা যায়? এখন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং, ১৬এস আরআরএনএ সিকোয়েন্সিং, আইটিএস সিকোয়েন্সিং ও মেটাজিনোমিক্সের মতো প্রযুক্তিতে বীজের অণুজীব শনাক্ত করা যাচ্ছে। সঙ্গে হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং, ডিজিটাল ফেনোটাইপিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বীজের অণুজীব, শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষমতার সম্পর্ক বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রবন্ধে বীজের অণুজীবকে দুই ভাগে দেখা হয়েছে। বীজের বাইরের পৃষ্ঠে থাকা অণুজীব (এপিফাইটিক), যাদের উপস্থিতি মাটি, পরিবেশ, ফুল ও উদ্ভিদের পৃষ্ঠ, বীজ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের ধরনে বদলাতে পারে; আর বীজের ভেতরের টিস্যুতে থাকা অণুজীব (এন্ডোফাইট)। ২০২৩ সালের এক গবেষণার (War ও সহকর্মী) ভিত্তিতে দেখানো হয়েছে, মাইক্রোবায়োম কোন কোন উপায়ে চারার স্বাস্থ্য রক্ষায় অবদান রাখতে পারে।
কৃষকের কাছে এর গুরুত্ব সরাসরি: ভালো মানের বীজ দ্রুত ও সমানভাবে গজায়, শক্ত চারা দেয় এবং প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকে, ফলে ফলন ও লাভের সঙ্গে বীজের মানের সরাসরি সম্পর্ক। প্রবন্ধের ভাষায়, এত দিন প্রশ্ন ছিল ‘এই বীজ কত শতাংশ গজাবে?’; ভবিষ্যতের প্রশ্ন হবে ‘এই বীজের সঙ্গে কোন অণুজীব আছে, আর তারা অঙ্কুরোদগম ও চারার বৃদ্ধিকে কীভাবে প্রভাবিত করছে?’
প্রবন্ধটি বীজ মাইক্রোবায়োম, হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং, ডিজিটাল ফেনোটাইপিং ও এআই মিলিয়ে ভবিষ্যতের নির্ভুল ও পূর্বাভাসভিত্তিক বীজ প্রযুক্তির একটি সম্ভাব্য কাঠামোও তুলে ধরেছে।
ছবি: Department of Foreign Affairs and Trade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: বিজ্ঞানী.অর্গ





মন্তব্য
(০)