মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কয়েক বছরের সচেতনতা সত্ত্বেও স্কটল্যান্ডের প্রতি তিনজন কৃষক ও ক্রফটারের (ছোট ভাড়াটে খামারি) একজন মানসিক ও শারীরিকভাবে ভালো নেই। দাতব্য সংস্থা ফার্মস্ট্রং স্কটল্যান্ডের করানো একটি স্বাধীন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
২০২৫ সালের জরিপে অংশ নেওয়াদের ৩৩ শতাংশের সুস্থতার মাত্রা কম পাওয়া গেছে। প্রধান চাপের মধ্যে আছে ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ এবং খামার ছেড়ে সময় বের করতে না পারা। ফল ২০২৪ সালের জরিপের প্রায় একই রকম, অর্থাৎ সমস্যাগুলো স্থায়ী হয়ে আছে।
ফার্মস্ট্রংয়ের পরিচালক অ্যালিক্স রিচি বলেন, খামারে কাজের লোক কমে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। কৃষকেরা আগে যেখানে একে অপরের সঙ্গে দেখা করতেন, যেমন পশুর হাট, স্থানীয় পানশালা বা নিয়মিত সভা, তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। অনেক খামারে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে থাকেন ও কাজ করেন; ঘর আর কাজের জায়গা এক হওয়ায় বিশ্রামের সুযোগ কম মেলে।
রিচির মতে, মাটি, পশুর স্বাস্থ্য, যন্ত্রপাতি আর ব্যবসার উন্নতিতে কৃষকেরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ পান, কিন্তু নিজের সুস্থতা রক্ষার প্রশিক্ষণ প্রায় পান না; কখন কষ্টে আছেন তা বোঝা এবং পরিবারের সঙ্গে সে বিষয়ে কথা বলার দক্ষতা তাঁদের শেখানো হয় না।
ফার্মস্ট্রংয়ের সহসভাপতি জক গিবসন বলেন, কৃষকের সুস্থতা বাড়লে খামার ব্যবসাও লাভবান হয়; তথ্য বলছে এতে খামারে দুর্ঘটনা ও আঘাত কমে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি আরও ভালোভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কও ভালো হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, তাদের প্রতিরোধমূলক সহায়তা নেওয়া কৃষক ও ক্রফটারদের ৮০ শতাংশ ইতিবাচক প্রভাব পেয়েছেন এবং ৮৩ শতাংশ অন্যদের এটি নিতে বলবেন; তবে সহায়তার কথা জানেন মাত্র ২৬ শতাংশ। জরিপের ফল কাজে লাগিয়ে কর্মসূচি সাজানো এবং স্কটল্যান্ডজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন খোঁজার পরিকল্পনা করছে ফার্মস্ট্রং। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অ্যান ডান।
ছবি: Julian Paren / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)