২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দুধ উৎপাদিত হয়েছে ২২৫.৯ বিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০০৪ সালের ১৭০.৮ বিলিয়ন পাউন্ডের চেয়ে ৩২ শতাংশ বেশি। অথচ এই দুই দশকে নিবন্ধিত দুগ্ধপালের সংখ্যা ৬৬,৮২৫ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৪,৮১১-তে—পতন ৬৩ শতাংশ। ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের অর্থনীতিবিদ জেফরি গিলেস্পি ও এরিক এনজুকি অ্যাগ্রিকালচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সার্ভে (এআরএমএস) ও কৃষিশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিবর্তনের কারণ খুঁজেছেন।
বাড়তি দুধের একটি অংশ এসেছে গাভির নিজের উৎপাদনক্ষমতা থেকে। প্রতি গাভির গড় বার্ষিক উৎপাদন ২০০৪ সালের ১৮,৯৬০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে হয়েছে ২৪,১৭৮ পাউন্ড, বৃদ্ধি ২৮ শতাংশ। তবে প্রতি খামারে দুধ বাড়ার মূল কারণ খামারের আকার বেড়ে যাওয়া। ২০০২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এক হাজারের কম গাভির পাল কমেছে, আর এক হাজার বা তার বেশি গাভির পালের সংখ্যা বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এআরএমএসের তথ্য বলছে, গড় মার্কিন দুগ্ধখামারে ২০০০ সালে গাভি ছিল ১১২টি, ২০২১ সালে তা দাঁড়িয়েছে ২৮৩টিতে।
আকার আর প্রযুক্তি এগিয়েছে হাত ধরাধরি করে। ২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কম্পিউটারচালিত দোহন ব্যবস্থা ব্যবহার করা খামার থেকে আসা দুধ বিক্রির হিস্যা ২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫ শতাংশ, আর দিনে তিন বা তার বেশিবার দোহন করা খামারের হিস্যা ১৯ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশ। কম্পিউটারচালিত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার হিস্যা ২২ থেকে ৫২ শতাংশ, মিল্কিং পার্লারের হিস্যা ৭০ থেকে ৮৮ শতাংশ এবং উন্নত প্রজনন পদ্ধতি—কৃত্রিম প্রজনন, ভ্রূণ স্থানান্তর ও সেক্সড সিমেন—এর হিস্যা ৭৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৬ শতাংশ।
একটি প্রযুক্তি গেছে উল্টো পথে। দুধ বাড়াতে একসময় বহুল ব্যবহৃত বৃদ্ধি হরমোন রিকম্বিন্যান্ট বোভাইন সোমাটোট্রপিন ব্যবহারকারী খামার থেকে আসা দুধ বিক্রির হিস্যা ২০০০ সালের ৩৫ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে নেমেছে ২ শতাংশে। গবেষকদের মতে, এর কারণ বাজারজাতকরণসংক্রান্ত উদ্বেগ।
গবেষণায় এসব প্রযুক্তির কিছুকে বলা হয়েছে ‘স্কেল-নির্ভর’—অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট আকারে না পৌঁছালে খামারের পক্ষে সেগুলো নেওয়াই সম্ভব হয় না। পালের আকার বাড়লে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ার এটিও একটি কারণ। ২০২১ সালে ৫০-এর কম গাভির পালে ১০০ পাউন্ড দুধ উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৪২.৭১ ডলার, আর দুই হাজার বা তার বেশি গাভির পালে ১৯.১৪ ডলার।
তবু খরচ তুলে আনা সহজ হয়নি। ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গড় দুগ্ধখামার প্রতিবছরই খাদ্যের খরচ তুলতে পেরেছে; খাদ্য, শ্রম, উপকরণ ও সেবা মিলিয়ে পুরো পরিচালন ব্যয় তুলতে পেরেছে ২০০৯ ও ২০১২ ছাড়া প্রতিটি বছর। ঘরবাড়ি, যন্ত্রপাতি ও বিমার মতো মালিকানা ব্যয় যোগ করলে ২৫ বছরের মধ্যে ১৩ বছর খরচ উঠেছে। আর অবৈতনিক শ্রম ও জমির সুযোগব্যয়সহ মোট অর্থনৈতিক ব্যয় ধরলে তা উঠেছে মাত্র ৪ বছরে।
গবেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আকারই সব নয়। কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, খামার কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, দুধ ও গবাদিপশুর কত দাম মিলছে, উপকরণে কত খরচ হচ্ছে—এমনকি খামারের চারপাশের পরিবেশও—সবই খরচ ঠিক করে দেয়। প্রতিটি আকারের খামারেই কম খরচের উৎপাদক যেমন আছেন, বেশি খরচের উৎপাদকও তেমনি আছেন।
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস





মন্তব্য
(০)