ঝোপঝাড়, তৃণভূমি আর গ্রামের প্রান্তের প্রাণী শিয়াল গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরের এক বিচ্ছিন্ন ম্যানগ্রোভ দ্বীপে নিয়মিত বাস করছে বলে মনে হচ্ছে, ডাউন টু আর্থে নিজেদের নামে লেখা এক নিবন্ধে জানিয়েছেন একদল গবেষক। লেখার মতামত লেখকদের নিজস্ব।
জোয়ারভাটার বড় দ্বীপ সাতসাইদা বেটে মাঠ জরিপের সময় কার্তিকেয়ন কান্নানের নেতৃত্বে দলটি বারবার সোনালি শিয়াল (Canis aureus) দেখেছে, বেশির ভাগ ভোরে; জোয়ারের পর জোয়ারভাটার অঞ্চল ও ম্যানগ্রোভের ভেতর দিয়ে যাওয়া তাজা পায়ের ছাপও মিলেছে। দল বেঁধে দেখা না গেলেও বারবার দেখা ও ছাপ ইঙ্গিত দেয়, প্রাণীগুলো মাঝেমধ্যে আসে না, দ্বীপটি নিয়মিত ব্যবহার করে। নৌকার ইঞ্জিনের শব্দেও তারা অভ্যস্ত মনে হয়েছে।
দ্বীপে খাবার আছে: কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক, আটকে পড়া মাছ, পাখির ডিম ও ছানা, ছোট প্রাণী ও মরা প্রাণী; ম্যানগ্রোভে ছায়া ও বিশ্রামের জায়গা, আর ভাটায় কাদার চর চলার পথ। খাঁড়ির আশপাশে জেলেরা মাছ বাছাই করে অপ্রয়োজনীয় অংশ ফেলে দিতে পারেন; গবেষকদের ধারণা, নৌকার প্রতি শিয়ালের সহনশীলতা হয়তো খাবারের সঙ্গে শেখা সম্পর্ক। কান্দলার ম্যানগ্রোভ খাঁড়িতেও শিয়াল ফেলে দেওয়া মাছ খায় বলে শোনা যায়। লেখকেরা বলছেন, এমন অভিযোজন বন্যপ্রাণীকে মানুষের কাছাকাছি টিকে থাকতে সাহায্য করে, তবে নির্ভরতা, বর্জ্য, রোগ ও সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ায়।
ভাটাতেও পানিতে ডুবে থাকা খাঁড়িঘেরা দ্বীপে প্রাণীগুলো কীভাবে পৌঁছাল, তা অজানা: হয়তো অস্বাভাবিক কম ভাটায় কাদা পেরিয়ে, সরু খাল সাঁতরে কিংবা সাময়িক কোনো সংযোগ ধরে। কতটি শিয়াল আছে, কী খায়, কাঁকড়া, পাখি বা ইঁদুরের ওপর প্রভাব ফেলে কি না, তা জানতে ক্যামেরা ফাঁদ, নিয়মিত ছাপ জরিপ, বিষ্ঠার জিনগত নমুনা, জেলেদের সাক্ষাৎকার, খাদ্য বিশ্লেষণ ও স্থিতিশীল আইসোটোপ বিশ্লেষণের প্রস্তাব দিয়েছেন লেখকেরা।
তাঁদের বড় যুক্তি ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ নিয়ে। চারা গোনা বা বনের আচ্ছাদন মানচিত্রে আঁকা দিয়ে বাস্তুতন্ত্র কাজ করছে কি না বোঝা যায় না; খাঁড়ি, কাদার চর, উপকূলের ঝোপ আর আবাসের মধ্যে সংযোগও সমান জরুরি, তাই ম্যানগ্রোভ পর্যবেক্ষণে গাছ, মাছ ও পাখির পাশাপাশি স্তন্যপায়ী প্রাণীও রাখা উচিত।
উপকূলের জেলে সম্প্রদায়ের জন্য এটি মনে করিয়ে দেয়, যে ম্যানগ্রোভ মাছ ও কাঁকড়ার পোনাকে আশ্রয় দেয়, কার্বন ধরে রাখে, ঝড়ের ধাক্কা কমায়, সেখানে একই মাছের টানে আসা স্থলের প্রাণীরও ভাগ আছে।
লেখা: কার্তিকেয়ন কান্নান (Karthikeyan Kannan) ও সহকর্মীরা, ডাউন টু আর্থ।
ছবি: Bernard Dupont / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)