সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন পাটের ভরা মৌসুম। কোথাও জমে থাকা পানিতে পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও কোমরপানিতে নেমে আঁশ ছাড়ানো চলছে, আবার পিচঢালা সড়কের ওপর সারি করে শুকাতে দেওয়া হয়েছে সোনালি আঁশ। রোগবালাই কম, ফলন ভালো আর দামও মন্দ নয়—সব মিলিয়ে এবার লাভের হিসাব কষছেন চাষিরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১১ হাজার ৬০৭ হেক্টরে, অর্থাৎ এক বছরে ৬৮ হেক্টর বেড়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার বেল; প্রতি বেলে প্রায় ১৮২ কেজি পাট থাকে। কৃষকেরা বিঘাপ্রতি ১২ থেকে ১৫ মণ ফলনের কথা জানিয়েছেন।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় পাটের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় এখনো পাট কাটা চলছে। তবে জেলায় পাটভিত্তিক কোনো শিল্প না থাকায় উৎপাদিত পাট স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও বিক্রি হয়।
কৃষি বিভাগের হিসাবে মানভেদে প্রতি মণ পাট এখন ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর মৌসুমের শুরুতে দাম ছিল মণপ্রতি ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, শেষ দিকে তা ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় উঠেছিল। জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সালেহ্ মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ জানান, পাটকেলঘাটায় পাটের বড় বাজার আছে; ব্যবসায়ীরা গ্রামে গিয়েও কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনছেন, আর কৃষকেরা এখন নানা মাধ্যমে বাজারদর জানতে পারেন।
তিন উপজেলার সাতজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটখেতে গোড়া পচা, পাতা শুকিয়ে যাওয়া ও বিছা পোকার প্রকোপ ছিল কম। তালার ইসলামকাটির কৃষক আকবার আলী জানান, গত বছর রোগবালাই বেশি থাকায় বারবার কীটনাশক দিতে হয়েছিল; এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে, বাজারে দামও ভালো।
কলারোয়ার হেলাতলার কৃষক আবুল হোসেন প্রতিবছর দুই বিঘায় পাট করেন। গত বছর ২৫ মণ পেয়েছিলেন, এবার প্রায় ৩০ মণ আশা করছেন। ঝাপাঘাট গ্রামের কিবরিয়া সরদার পাঁচ কাঠা জমিতে চাষ ও পাট ধোয়া বাবদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে আড়াই থেকে তিন মণ পাট আর ৩৪ আঁটি পাটকাঠি পাচ্ছেন। ১১ শতক জমিতে ৩০০ গ্রাম বীজ বুনে প্রায় দুই মণ পাট পেয়েছেন আসাদুল সরদার; প্রতি আঁটি পাটকাঠি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রির আশা তাঁর।
পাটের পাতা মাটির উর্বরতা বাড়ায়, আর আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও জ্বালানি ও নানা কাজে বিক্রি হয়—তাই ধান কাটার পর পাট লাগানো কৃষকের জন্য বাড়তি আয়ের পথ হয়ে উঠেছে। তুজলপুরের কৃষক মোহাম্মদ আবদুল করিম ১৮ দিন জাগ দেওয়ার পর আঁশ ছাড়িয়ে এখন আঁটি বেঁধে শুকাচ্ছেন; খরচ বাদে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)