টানা ছয় মাস গ্যাস-সংকটে বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছিল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কিন্তু চালুর দুই দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটিতে আবার বন্ধ হয়ে গেছে কারখানাটির ইউরিয়া উৎপাদন। উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম কারখানা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয় এবং মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটার দিকে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। দুই দিন পর আরসি পাম্পের সিল লিকেজ দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়। কর্মকর্তারা জানান, পাম্পের ত্রুটি মেরামত সম্ভব হলেও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ শনিবার পর্যন্ত কম থাকবে; তাই শনিবারের আগে উৎপাদন শুরু করা যাবে না।
চালু থাকলে কারখানাটি দিনে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারে; টনপ্রতি ৩৮ হাজার টাকা হিসাবে দৈনিক প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার সার। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বিপুল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে কারখানাটি; ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা উৎপাদন করতে পেরেছে মাত্র ৬৫ হাজার মেট্রিক টন।
গত দুই বছরের ইতিহাস বন্ধ-চালুর পুনরাবৃত্তি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র পাঁচ দিন চালু ছিল; ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হয়ে প্রায় আট মাস পর ১৩ অক্টোবর চালু হয়। ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি চালু, ১১ এপ্রিল গ্যাস বন্ধে আবার স্তব্ধ। প্রায় ছয় মাস পর ২ নভেম্বর চালু হলেও সেদিনই বন্ধ; ২ মার্চ চালু হয়ে গ্যাস-সংকটে ৪ মার্চ আবার বন্ধ। সবশেষ ছয় মাস বন্ধের পর ১৫ সেপ্টেম্বর চালু হয়ে দুই দিনেই থেমে গেল।
পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে সিইউএফএলের দিনে ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস লাগে; পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর হওয়ায় সরবরাহে টান পড়লেই উৎপাদন থেমে যায়। দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়ার চাহিদা রয়েছে; বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন কারখানাগুলো সিইউএফএলসহ প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদন করে, বাকি প্রায় ১৬ লাখ টন আমদানি করতে হয়।
১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করে সরকার। চালুর সময় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ও বার্ষিক ৫ লাখ ৬১ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল; এখন তা দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ টন। এ ছাড়া দৈনিক ৮০০ টন ও বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা আছে কারখানাটির।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)