দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারে পর্যটন বন্ধের মৌসুমে বনায়ন ও বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি শুরু করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। দ্বীপের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ২০ হাজার দেশি প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে চার দিনে পুরো দ্বীপের প্লাস্টিক ও পলিথিন সংগ্রহ করে মূল ভূখণ্ডে ফেরত আনার কাজও চলছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সেন্ট মার্টিন অনন্য; ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেও আরেকটি সেন্ট মার্টিন তৈরি করা যাবে না। তাঁর মতে, এই বর্ষা ও অফসিজনই গাছ লাগানো ও দ্বীপ পরিচ্ছন্ন করার সঠিক সময়, যাতে শীতে পর্যটকেরা আসার আগে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা যায়।
তবে কড়াকড়িতে বিপাকে পড়েছেন স্থায়ী বাসিন্দারা। স্থানীয়দের তথ্যমতে, দ্বীপে প্রায় ২ হাজার ২০০ পরিবারের বাস, যার অন্তত ২ হাজার পরিবার এখন বেকার। আগে বছরে ছয় মাস পর্যটন চলত এবং সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল মাত্র ২২ দিনের; এখন মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা, আর পর্যটন মৌসুম নেমে এসেছে দুই থেকে তিন মাসে।
১৯৯৯ সালে দ্বীপের ৫০৯ হেক্টর এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং পরে প্রায় ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রাঞ্চলকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়। তবু শত শত অননুমোদিত হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, সৈকতের কেয়াবন কাটা পড়েছে, আর ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনে মিঠা পানির স্তরে লবণ পানি ঢুকছে।
নভেম্বর থেকে এপ্রিল সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজনন মৌসুম হলেও হোটেলের আলো, শব্দ এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে ডিম পাড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দ্বীপে ছয় থেকে সাত হাজার বেওয়ারিশ কুকুর থাকলেও স্থানীয় হাসপাতালে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক নেই। পর্যটন নিয়ন্ত্রণে সৈকতে লাল কাঁকড়া ও কচ্ছপের আনাগোনা কিছুটা বাড়লেও কর্মহীন দ্বীপবাসীর বিকল্প জীবিকা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: দিনাজপুর টিভি


মন্তব্য
(০)