মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সাবাজপুর চা-বাগানে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, গত দুই মাসে বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকুণ্ঠনগর, বিপিন টিলা, আন্ডার টিলা ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় কয়েক শ গাছ কাটা হয়েছে; ঢালের বড় গাছ হাতি দিয়ে নামিয়ে ট্রাকে করে বিয়ানীবাজারের কাঠ ব্যবসায়ী মিজান উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজনের কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ। কাঠ প্রথমে বাগানের কার্যালয় ও কারখানার আশপাশে মজুত রেখে ভোরে স-মিলে পাঠানো হতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে বন বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের পর বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাগান পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া; বিভিন্ন স্থানে বিপুল কাটা গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং বাগান কর্তৃপক্ষ বন বিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন দেখাতে পারেনি। তার নির্দেশে রেঞ্জ কর্মকর্তা কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। নাইমা নাদিয়া বলেন, কাটা গাছ যে অবস্থায় আছে সেভাবেই সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; বন বিভাগ পরিমাপ করে প্রতিবেদন দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—চা বোর্ড ও বন বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া চা-বাগানের গাছ কাটা বৈধ নয়।
বড়লেখা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নীলোৎপল সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বাগান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছ কেটেছে, এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কাও আছে। প্রথম দিন প্রায় ৫০০ ঘনফুট এবং রোববার বাগানের ভেতরে অভিযানে ১৩০টি গাছের গুঁড়ি ও আরও দুই শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ হয়েছে—সব মিলিয়ে ৭ শতাধিক ঘনফুট; চূড়ান্ত পরিমাপ শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
বাগানের ব্যবস্থাপক নাহিদ আহমদ চৌধুরীর বক্তব্য, চা বোর্ডের শর্তে প্রতিবছর বাগানের মোট জমির আড়াই শতাংশ নতুন করে চা চাষের আওতায় আনতে হয়; সে লক্ষ্যে চলতি বছরের এপ্রিলে ১২৫ একর এলাকার রোগাক্রান্ত ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ অপসারণের অনুমতি চেয়ে চা বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে, যা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দুই মাস ধরে প্রকাশ্যে গাছ কাটা, হাতি দিয়ে কাঠ নামানো ও ট্রাকে বাইরে নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর এড়াল কীভাবে। পরিবেশ ও বনসংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদন ছাড়া চা-বাগানের গাছ কাটা শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়—স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের জন্য বড় হুমকি; তারা নিরপেক্ষ তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)