সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস ১১ কিমি/ঘ

রোগ থেকে দূরে রাখবে ফল

আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রকৃতির এক অমূল্য দান হলো ফল। ফল শুধু খাবার নয়, এটি প্রাকৃতিক ওষুধ, যা আমাদের রোগ থেকে দূরে রাখে এবং সুস্থ-সবল জীবনযাপনে সহায়তা করে।

ফল

আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রকৃতির এক অমূল্য দান হলো ফল। ফল শুধু খাবার নয়, এটি প্রাকৃতিক ওষুধ, যা আমাদের রোগ থেকে দূরে রাখে এবং সুস্থ-সবল জীবনযাপনে সহায়তা করে।

বাংলার প্রাচীন জ্ঞানী নারী খনা তার বচনে কৃষি, ফল, ঔষধ ও জীবনযাপনের নানা বিষয় নিয়ে বলে গেছেন। ফল ও রোগ নিরাময় সম্পর্কেও খনার বচন আছে - দেশি ফল; রোগ দূরে করে টলমল।

>> ফলে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

>> নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখে, হজমশক্তি বাড়ায়, রক্ত পরিশুদ্ধ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

>> অনেক ফল শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি-রেডিকেল প্রতিরোধ করে বয়সের প্রভাব কমায় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খেলে অকালমৃত্যু ও জটিল রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া নানা ধরনের ফল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ দেশের মৌসুমি ও সারাবছরের ফল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিতেও সমৃদ্ধ। দেশি ফলে বিদ্যমান ভিটামিন শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আম: আম আমিষে ভরপুর একটি ফল হলেও এতে ভিটামিন এ ও সি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন সি শরীরকে সতেজ রাখে ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। কাঁচা আম হজমে সাহায্য করে এবং গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে।

কলা: কলা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় দেশি ফল। এতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, পটাশিয়ামসহ নানা খনিজ উপাদান রয়েছে। কলা শক্তি জোগায়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং হজমে সহায়ক।

আমলকী: আমলকী ভিটামিন সি–এর ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত পরিশোধন করে এবং ত্বককে সুন্দর রাখে। এছাড়া লেবু, কমলালেবু ও পেয়ারা শরীরে ভিটামিন সি–এর ঘাটতি পূরণে অসাধারণ।

পেয়ারা: পেয়ারা শুধু ভিটামিন সি নয়, ভিটামিন এ ও আঁশে সমৃদ্ধ, যা হজম ও চোখের জন্য উপকারী।

কাঁঠাল, লিচু, আতা, ডালিমসহ অন্যান্য দেশি ফলও নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজের উৎস। এগুলো শরীরকে শক্তি দেয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সার্বিকভাবে বলা যায়, দেশি ফল আমাদের জন্য প্রাকৃতিক ভিটামিন ও পুষ্টির ভাণ্ডার। নিয়মিত দেশি ফল খাওয়া শরীরকে রোগমুক্ত, সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে। তাই দেশিয় ফলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, চাষ বৃদ্ধি ও ভোগ বাড়ানো আমাদের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য সমানভাবে উপকারী।

দেশি ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে সহজলভ্য আম, কলা, পেঁপে, কাঁঠাল, পেয়ারা, জাম, লিচু ইত্যাদি ফল প্রাকৃতিক ভিটামিন, খনিজ লবণ ও আঁশে সমৃদ্ধ। এসব ফলের আঁশ (ফাইবার) আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। যেমন-

>> পেঁপেতে থাকা এনজাইম প্যাপেইন হজমের জন্য অত্যন্ত কার্যকর, যা প্রোটিনকে ভেঙে শরীরে সহজে শোষিত হতে সাহায্য করে।

>> কলা দ্রুত শক্তি দেয় এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে কার্যকর।

>> পেয়ারা ও কাঁঠাল হজমে সহায়ক আঁশ সরবরাহ করে, যা অন্ত্র পরিষ্কার রাখে।

>> জাম হজমের গণ্ডগোল ও অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।

>> দেশি ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং পাকস্থলীর সুস্থতা বজায় রাখে। কৃত্রিম খাবারের তুলনায় দেশি ফল সহজে হজম হয়, ফলে পেট ভারী লাগে না।

>> নিয়মিত দেশি ফল খেলে হজমতন্ত্র শক্তিশালী হয় এবং গ্যাস্ট্রিকসহ নানা হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমে।

তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দেশি ফল অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শুধু শরীরকে পুষ্টি জোগায় না, বরং হজম প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিকভাবে সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যকর রাখে।

ফল শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রদাহ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলেও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও ক্যানসারের মতো গুরুতর অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ধরনের ক্ষতিকর প্রদাহ প্রতিরোধে ফল প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে।

>> অনেক ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও ফাইটোকেমিক্যাল থাকে, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি-রেডিক্যালকে নিস্ক্রিয় করে। যেমন, আমলকী ও কমলালেবুর ভিটামিন - সি প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

>> আঙুর ও ব্লুবেরিতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমায়।

>> পেঁপে, আনারস ও পেয়ারা হজমে সাহায্য করার পাশাপাশি শরীরে প্রদাহবিরোধী এনজাইম তৈরি করে। এছাড়া কলা ও আপেলের ফাইবার অন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং প্রদাহের ঝুঁকি হ্রাস করে।

>> নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

তাই বাজারের প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে তাজা ফল বেছে নেওয়া প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

খনা ফলকে শুধু খাদ্য নয়, বরং প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেও দেখেছেন। তাঁর বচনে বলা হয়েছে, দেশি মৌসুমি ফল নিয়মিত খেলে শরীর সুস্থ থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ওষুধের প্রয়োজন অনেকটা কমে যায়। তাই সুস্থ, রোগমুক্ত ও কর্মক্ষম জীবনের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল রাখুন।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

কেরানীগঞ্জে উচ্চমূল্যের ফল চাষে দুই তরুণের সাফল্য

গতানুগতিক শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে কৃষিতে নতুন ভবিষ্যৎ খুঁজছেন শিক্ষিত তরুণরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ২৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে উচ্চমূল্যের অপ্রচলিত ফলের আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেছেন দুই তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা। শাম্মাম, রকমেলন ও ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে প্রথমবারেই এসেছে বড় সাফল্য।

শাইখ সিরাজ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
এগ্রোটেক

চাষিকে তথ্য-বিশ্লেষক হতে হবে না, বলছেন Orchard Robotics-এর Charlie Wu

Orchard Robotics-এর প্রতিষ্ঠাতা Charlie Wu বলছেন, ট্রাক্টরে বসানো তাঁদের এআই ক্যামেরা গাছ ধরে ধরে ফল গোনে ও মাপে, শ্রম ও উপকরণ সাশ্রয়ে প্রথম বছরেই তিন থেকে দশ গুণ ফেরত দেয়; আপেল থেকে কোম্পানিটি এখন আরও এক ডজন ফসলে যাচ্ছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()