জাপানের এগ্রোটেক স্টার্টআপ Culta তাদের এআই-নির্ভর জাত উদ্ভাবন ও ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রির মডেল এশিয়ার বাইরে নিতে চায়। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চলছে। ২০৩২ সালের মধ্যে কোম্পানিটির লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।
২০১৭ সালে Shuhei Noaki কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। Culta নিজেদের ফলের জাত উদ্ভাবন করে, ৩৬ জন চুক্তিবদ্ধ চাষিকে লাইসেন্স ও কৃষিতাত্ত্বিক সহায়তা দেয়, তাঁদের পুরো ফসল—শতভাগ—কিনে নেয় এবং ব্র্যান্ডের নামে জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। Noaki বলেন, "আমরা Zespri ও Discroll's-এর মতো উল্লম্বভাবে সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেল প্রয়োগ করছি।"
জাত উদ্ভাবনে Culta এআই ও মেশিন লার্নিং দিয়ে গাছের জিনোম-তথ্য ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে সংকরায়ণের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মাতৃ-পিতৃ গাছ বেছে নেয়—জিন সম্পাদনা বা জেনেটিক পরিবর্তন ছাড়াই। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নিয়ন্ত্রিত ঘরোয়া পরিবেশে দ্রুত প্রজনন চক্র: জাপানে খোলা মাঠে বছরে এক চক্রের বদলে Culta বছরে তিনটি স্ট্রবেরি প্রজনন চক্র চালায়। চাষিদের মাঠের তথ্য জমা হয় এমন এক জাত-ডেটাবেজে, যা Noaki-র ভাষায় "নকল করা অত্যন্ত কঠিন"। কোম্পানির দাবি, তাদের প্রজনন চক্র প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ দ্রুত—স্ট্রবেরির নতুন জাত তৈরিতে সাধারণত যে ১০ বছর লাগে, তা নেমে এসেছে দুই বছরে।
প্রথম লক্ষ্য স্ট্রবেরি, কারণ জাপানি স্ট্রবেরি মিষ্টতার জন্য বিখ্যাত হলেও উষ্ণ বসন্তে মৌসুম ছোট হয়ে আসছে: আগে ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সরবরাহ যেত, এখন এপ্রিলের পর বিক্রি করা কঠিন। Culta-র প্রথম জাত SAKURA DROPS বসন্তের শুরুর গরম সহ্য করে জুন পর্যন্ত বাজারে থাকে; জাপানের শীর্ষ জাত Benihoppe-এর তুলনায় এর ফলন ১.৪ গুণ ও ব্রিক্স (চিনির মাত্রা) ১.৩ গুণ বেশি। ফলটি ১.৪ গুণ শক্ত, তাই পুরো পাকা অবস্থায় তুলে পরিবহন করলেও ১০ দিনের বেশি মান ধরে রাখে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার অভিজাত দোকানে এক প্যাকেট বিক্রি হয় ২০ সিঙ্গাপুর ডলারে (১৬ মার্কিন ডলার)।
নতুন জাতের মধ্যে আছে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য উন্নত মিষ্টতা, ফলন ও রোগ প্রতিরোধী সাদা স্ট্রবেরি। সেখানে উপহারের বাজারে সাদা ফলের কদর থাকলেও স্বাদে তা লাল জাতের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। Noaki বলেন, "দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুপারমার্কেটের ক্রেতারা বলছেন, এগুলো বিশ্বের সেরা স্বাদের সাদা স্ট্রবেরি।"
গত বছর Culta টেবিল আঙুর ও আপেলের জাত উদ্ভাবন শুরু করেছে; ২০৩০ সালের মধ্যে দুই ফসলেই জাত বাজারে আনার লক্ষ্য, আর কফি ও কোকোর কর্মসূচিও পাইপলাইনে। জাপানে গরম গ্রীষ্মে আঙুরের রং ধরা ব্যাহত হচ্ছে, উত্তরাঞ্চলেও আপেল চাষ কঠিন হয়ে উঠছে। ফলগাছের প্রজনন চক্র ছোট করতে কোম্পানি ঘরের ভেতরে গাছ বাড়ানোর পরীক্ষা চালাচ্ছে। Kirin-এর সঙ্গে তাপসহনশীল হপস উদ্ভাবনের একটি প্রকল্পও চার বছরে পড়েছে। ঘরে জৈবপ্রযুক্তির দক্ষতা থাকলেও জিন সম্পাদনার পথে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন Noaki: ফলন বা ব্রিক্সের মতো বৈশিষ্ট্য একটি জিনের বদলে অনেক জিনের ওপর নির্ভর করে, আর স্ট্রবেরি অক্টোপ্লয়েড—তাই এগুলো "সম্পাদনা করা কঠিন"।
এপ্রিলে কোম্পানিটি ৭০ কোটি ইয়েন (৪৫ লাখ ডলার) প্রি-সিরিজ এ তহবিল সংগ্রহ শেষ করেছে। Noaki বলেন, পরের পরীক্ষা হলো এশিয়ায় গড়া এই মডেল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চলে কি না—যেখানে স্ট্রবেরির বাজার বিশাল, কিন্তু স্বাদ মিষ্টি জাপানি ফলের চেয়ে একেবারে আলাদা। এশীয় ক্রেতাদের সরবরাহ বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদনের পরিকল্পনা আছে।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)