খুলনার ২৪ বছরের কৃষক রাজিয়া খাতুন একসময় পরিবারের পুকুরে মাছকে খাবার দিতে সাহায্য করতেন। এখন তিনি সমন্বিত বহুস্তর জলজ চাষ (আইএমটিএ) পদ্ধতিতে নিজের পুকুর চালান, আয় আবার খামারে খাটান এবং প্রতিবেশীদের প্রশিক্ষণ দেন, জানিয়েছে WorldFish (ওয়ার্ল্ডফিশ)।
আইএমটিএ পদ্ধতিতে একই পুকুরে মাছ, শামুক-ঝিনুক জাতীয় প্রাণী ও জলজ উদ্ভিদ একসঙ্গে চাষ হয়, ফলে পুষ্টি উপাদানের পূর্ণ ব্যবহার হয় এবং একাধিক খাদ্য ও আয়ের উৎস তৈরি হয়। এশিয়া-আফ্রিকা ব্লুটেক সুপারহাইওয়ে (এএবিএস) প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ডফিশ ও অংশীদারেরা স্থানীয়ভাবে উপযোগী আইএমটিএ পদ্ধতি পরীক্ষায় কৃষকদের সহায়তা করছে। কক্সবাজার ও খুলনায় কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে ১১২ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের ২১ জন নারী।
সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাজিয়া ২০২২ সাল থেকে মাছ চাষ করছেন। প্রশিক্ষণে তিনি শিখেছেন মাছ, গলদা চিংড়ি, আপেল শামুক এবং কলমি ও হেলেঞ্চার মতো জলজ শাক চাষ, সঙ্গে পুকুর প্রস্তুতি, খাবার ব্যবস্থাপনা ও জৈব নিরাপত্তা। তিনি বলেন, আইএমটিএ শুরু করার পর তাঁর সব সংশয় দূর হয়ে গেছে। শামুক তিনি হাঁস-মুরগির খাবার হিসেবেও দেন, আর শাক যায় পরিবারের পাতে।
গত মৌসুমে ১৫ শতকের আইএমটিএ পুকুর থেকে তাঁর লাভ হয়েছে ৮০ হাজার ২১৪ টাকা। মোট খরচ ছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা, যার ৫ হাজার টাকা তিনি নিজে দিয়েছেন, বাকিটা এএবিএস। আয়ের একাংশে তিনি মাছের পোনা কিনেছেন, সংসার খরচ চালিয়েছেন, গবাদিপশু বাড়িয়েছেন এবং ৩৫ হাজার টাকায় একটি দুধেল গাভী কিনেছেন। চলতি মৌসুমে আংশিক আহরণেই চিংড়ি থেকে ৮ হাজার এবং কলমি শাক থেকে ২ হাজার টাকা এসেছে।
এএবিএসের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজিয়া এখন কৃষক মাঠ স্কুলের সহায়ক; তিনি ছয়জন প্রতিবেশী কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ। গ্রামের নারীরা এখন পরামর্শের জন্য তাঁর কাছে আসেন।
রাজিয়া এখন আরও দুটি পুকুরে আইএমটিএ চালু করছেন এবং পুকুরপাড়ে শিম ও বেগুন চাষ শুরু করেছেন; মাছ ও গবাদিপশুর ব্যবসা বড় করার স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর কথায়, নারীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই; কাজ করলে অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেই আয় করা যায়।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: WorldFish





মন্তব্য
(০)