টাঙ্গাইলের মধুপুরে বেড়ে ওঠা তরুণ পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সির ছোটবেলায় বাড়ির কাছেই ছিল বিস্তীর্ণ শালবন; সময়ের সঙ্গে সেই বন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। বন কমে যাওয়ার এই চিত্রই তাঁকে পরিবেশ রক্ষার কাজে টেনে এনেছে, জানিয়েছে আমার দেশ। তাঁর দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার গাছ রোপণ করেছেন, পাশাপাশি অনেক অসুস্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত গাছ পরিচর্যা করে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক দ্রাবিড় সৈকতের কাছে হাতে-কলমে প্রকৃতি পাঠ নেন রাতুল। ২০১৯ সালে ক্যাম্পাসের একটি শতবর্ষী বটগাছ ও পুকুর রক্ষায় সহপাঠীদের সঙ্গে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনে অংশ নেন। ক্যাম্পাসের একটি মহুয়াগাছের বাকল ও পাতা ছাগলে খেয়ে ফেললে তিনি পাশের গ্রাম থেকে গোবর এনে পুরো কাণ্ডে প্রলেপ দেন; গাছটি আবার প্রাণ ফিরে পায়।
২০২০ সালে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার হেঁটে বৃক্ষ পদযাত্রায় অংশ নেন; এতে ৪০০টির বেশি বাজার ও ২৬টি উপজেলায় গাছ লাগানো এবং আগ্রাসী গাছ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়। ফলদ বাংলাদেশ সংগঠনের হয়ে প্রায় তিন লাখ ফলগাছ রোপণে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। দেশের ৬৪ জেলায় দুর্লভ বৈলামগাছ রোপণের পাশাপাশি একার চেষ্টায় দুই হাজারের বেশি তালগাছও লাগিয়েছেন।
মধুপুর গড় দেশের মধ্যাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শালবন, যা দীর্ঘদিন ধরে দখল ও বৃক্ষনিধনের চাপে আছে; কোথাও আগুন দিয়ে বন উজাড়, কোথাও বাকলে রাসায়নিক দিয়ে গাছ মেরে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। শালবন রক্ষায় রাতুল নিয়মিত সচেতনতা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালাচ্ছেন এবং তরুণদের নিয়ে একটি পরিবেশবাদী প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ বনসম্পদ গবেষণা ও উন্নয়ন পরিষদ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
রাতুলের কথায়, পরিবেশ শুধু গাছ বা বন নয়, ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ থেকে বন্যপ্রাণী পর্যন্ত সব প্রাণ এর অংশ। 'মৌমাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ পরাগায়ন না করলে ফসল উৎপাদন হবে না। গাছ আমাদের অক্সিজেনসহ জীবনের মৌলিক চাহিদার অনেকটা পূরণ করে, তবু আমরা নির্বিচারে গাছ কাটছি,' বলেন তিনি।
ছবি: Parthapdas100 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); মধুপুর শালবনের ভেতরে ধানখেত
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)