রাজশাহীর পদ্মা নদীতে আগের মতো দেশি প্রজাতির মাছ মিলছে না। নদীতে পানির প্রবাহ ও গভীরতা কমেছে, বেড়েছে চর ও বালু; ইলিশের পাশাপাশি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে দেশীয় মাছের বহু প্রজাতি। এর প্রভাব পড়েছে নদীনির্ভর জেলেদের জীবিকায়।
মৎস্য অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তথ্যমতে, পদ্মা থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশীয় মাছ আহরণ হয়েছিল ২ হাজার ২৮৩ টন; ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ২২১, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১৫২, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৫০ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমেছে ১ হাজার ৬২০ টনে।
রাজশাহী বিভাগে ইলিশ আহরণও কমছে: ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫০৭ টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৩৫ টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৪১ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৮১ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০০ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৯২ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৭৩ টন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আহরণ আরও কমবে। ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চালানো এক সমীক্ষায় পদ্মার দেশীয় ৭৭ প্রজাতির মধ্যে তিনটি সংকটজনকভাবে বিপন্ন, ১০টি বিপন্ন, নয়টি অতি বিপন্ন এবং আরও নয়টি বিপন্নপ্রায় পাওয়া গেছে।
গোদাগাড়ীর রেলওয়ে বাজার ও মৎস্য আড়তে এখন নদীর মাছ খুবই কম; বেশির ভাগই পুকুরে চাষ করা কাতলা, রুই, তেলাপিয়া, কৈ ও পাবদা। বাজারে বাঘাইড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ১,০২০ টাকায়। মাটিকাটা ইউনিয়নের জেলে দুরুল বলেন, ‘আগে যেখানে কয়েক মণ মাছ পেতাম, এখন তা কেজিতে নেমে এসেছে।’ তাঁর ভাষ্য, অনেকে ইতোমধ্যে মাছ ধরা ছেড়ে কৃষিশ্রমিকের কাজ নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন জলবায়ু পরিবর্তন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, প্রবাহ ও গভীরতা কমে যাওয়া, প্রজননক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার—বর্ষায় যার পানি নদীতে মেশে। গবেষকদের মতে, পানির গভীরতা ২০ থেকে ২৫ ফুট না হলে ইলিশ নদীতে উঠে আসতে চায় না।
নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর রাজশাহীতে ইলিশ কমতে থাকে এবং আশির দশক থেকে পদ্মায় ইলিশ আরও কমে যায়। রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইলিশ ডিম ছাড়তে স্বাদু পানির নদীতে আসে; নদীতে পর্যাপ্ত পানি ও স্বাভাবিক স্রোত না থাকলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রতিবেদন: রাজশাহী সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)