রাজশাহী ও নাটোর জেলার ২৩টি পৌরসভার একটিরও নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন বা ভাগাড় নেই। এর মধ্যে ২২টি পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সড়কের ধারে, নদে কিংবা খোলা জায়গায়। কেবল রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বর্জ্য যায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনে।
পুঠিয়া পৌরসভার বর্জ্য একসময় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে ফেলে কিছুদিন পরপর পুড়িয়ে দেওয়া হতো। তাতে রাস্তার পাশের গাছ মারা যাওয়ার পর এখন ফেলা হচ্ছে মুসাখান নদে। কানাইপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও ধোকড়াকুল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শাখাওয়াত মুন্সী বলেন, একসময়ের প্রবহমান মুসাখান নদ বর্জ্য ফেলে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। বছরখানেক আগে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো পদক্ষেপ হয়নি বলে জানান তিনি।
পুঠিয়া পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস বলেন, ডাম্পিং স্টেশনের কথা শুনলে কেউ জমি দিতে চায় না, তবু তাঁরা জমির চেষ্টা করছেন। কাঁকনহাট পৌরসভার বর্জ্য গড়গড়িয়া এলাকায় রাস্তার ধারে ফেলায় দুটি বড় মেহগনিগাছ মারা গেছে বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ; ১৮ সেপ্টেম্বরও সেখানে বর্জ্য ফেলা চলছিল।
নাটোরের বনপাড়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হয় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের পাশে। সেখানে তাল ও খেজুরসহ ছয়টি গাছ মারা গেছে। পৌর প্রশাসক ও বড়াইগ্রামের ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, খাসজমি পেলে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের নির্দেশনা এসেছে, তাঁরা জমি খুঁজছেন। গোদাগাড়ী পৌরসভারও ভাগাড় নেই; ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, সুবিধাজনক জমি পেলে কিনে ডাম্পিং স্টেশন করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহীর উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ডাম্পিং স্টেশন পৌরসভার মৌলিক চাহিদা। তাহেরপুর পৌরসভার ভাগাড়ের অনুমোদন থাকলেও তা করা হয়নি, এ জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। নাটোরের উপপরিচালক শামীম হোসেনের মতে, পৌরসভা হওয়ার আগেই ভাগাড় ঠিক করা দরকার ছিল; ঢাকায় বিষয়টি তোলা হলে তাঁকে জানানো হয়েছে, এগুলো ধাপে ধাপে হবে।
খোলা জায়গায় ফেলা বর্জ্যে নদী, রাস্তার পাশের গাছ ও আশপাশের জমি দূষিত হচ্ছে। মাঠে কাজ করা হাসান আলী বলেন, বাতাস যেদিকে যায়, দুর্গন্ধও সেদিকে যায়, তখন দাঁড়ানো যায় না। প্রতিবেদনটি করেছেন প্রথম আলোর আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)