রাজশাহী নগরের দায়রাপাক মোড় থেকে নাদের হাজীর মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের কৃষ্ণচূড়াগাছগুলো আবার সবুজ হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর সময় ক্রেন চলাচলে বাধা হওয়ায় সড়কের এক পাশের প্রায় ১০০টি গাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছিল। তখন শঙ্কা ছিল, গাছগুলো টিকবে কি না।
সোমবার দুপুরে সড়কটিতে গিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদক শফিকুল ইসলাম দেখেছেন, কাটা ডাল থেকে নতুন শাখা ও কচি পাতা বেরিয়েছে; কোথাও নতুন ডালপালা বেশ ঘন হয়েছে। দক্ষিণ পাশের যেসব গাছের ডাল কাটা হয়েছিল, সেগুলোতেও নতুন পাতা গজিয়েছে। তবে ডাল কাটার পর একটি গাছ মারা গেছে, আর এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কয়েকটি গাছের ডালও কেটেছেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ শাখার ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া কেউ গাছের একটি ডালও কাটতে পারেন না। বিদ্যুৎ বিভাগ মাঝেমধ্যে ডাল কাটে; চিঠি দিয়ে জানালে করপোরেশনের লোকজন গিয়ে কতটুকু কাটা দরকার দেখিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু অনেক সময় পুরো ডালপালাই কেটে ফেলা হয়।
রাজশাহী বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, গাছগুলোর নিচে অনেক মানুষ বসেন ও বিশ্রাম নেন, তাই সিটি করপোরেশনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সড়কের পাশে চা বিক্রেতা তাইজুল ইসলাম জানান, ডাল কাটার পর মানুষের আনাগোনা কমে গিয়েছিল, গাছ বড় হলে আবার ছায়া পড়বে, মানুষও ফিরবে। আশপাশের খাবারের দোকান ও পাঁচটি টার্ফ মাঠের ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সড়কের পরিবেশের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসার সম্পর্ক আছে।
পুরোনো বিস্তৃত ছায়া ফিরতে গাছগুলোর আরও সময় লাগবে। নগরবাসী ও পরিবেশকর্মীদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজের সঙ্গে গাছের সুরক্ষাও গুরুত্ব পাবে এবং অপ্রয়োজনীয় ডাল কাটা ঠেকাতে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে।
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)