সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৫%বাতাস কিমি/ঘ

কোরবানির হাটে বৃষ্টির হানা, বিপাকে গরুর ব্যাপারীরা

ঈদ সামনে রেখে ঢাকার কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছিল সকাল থেকেই। ক্রেতাদের পদচারণা, গরুর ডাক আর দরদামের কোলাহলে মুখর ছিল শাহজাহানপুর ও কমলাপুর পশুর হাট।

লাইভস্টক

ঈদ সামনে রেখে ঢাকার কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছিল সকাল থেকেই। ক্রেতাদের পদচারণা, গরুর ডাক আর দরদামের কোলাহলে মুখর ছিল শাহজাহানপুর ও কমলাপুর পশুর হাট।

তবে দুপুর গড়ানোর আগেই সে চিত্র বদলে যায়। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু হলে হাটজুড়ে দেখা দেয় ভোগান্তি। বৃষ্টির কারণে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে হাটের বেশিরভাগ অংশ। এতে বিপাকে পড়েন পশু নিয়ে আসা ব্যাপারীরা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সরেজমিনে শাহজাহানপুর ও কমলাপুর পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবার নিয়ে গরু দেখতে আসেন। কিন্তু দুপুরের প্রবল বৃষ্টির পর ক্রেতাদের একটি বড় অংশ দ্রুত হাট ছেড়ে চলে যান। বৃষ্টির পানিতে হাটের ভেতরে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও পানি জমে গেছে। এতে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাপারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শাহজাহানপুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যাপারী আবদুল মালেক জাগো নিউজকে বলেন, সকাল থেকে ভালো বেচাকেনার আশা ছিল। কয়েকজন ক্রেতা গরু দেখে দামাদামিও করছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর সবাই চলে গেছেন। এখন গরু সামলানোই কষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি জানান, তিনটি ট্রাকে করে ২২টি গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। পরিবহন খরচ, খাবার ও শ্রমিক মিলিয়ে এবার খরচ অনেক বেড়েছে। তার ওপর বৃষ্টিতে গরুগুলো ভিজে যাওয়ায় অসুস্থ হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

একই হাটে পাবনা থেকে আসা আরেক ব্যাপারী সাইদুল ইসলাম বলেন, হাটে পানি জমে যাওয়ায় গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। খড় ভিজে গেছে, গরুকে ঠিকমতো বসাতেও পারছি না। ক্রেতাও কমে গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাটে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা আর পানিতে হাটের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবে বেশিক্ষণ থাকতে চান না।

শাহজাহানপুর হাটের ব্যাপারী মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, সকালে বিক্রি ভালোই হয়েছে। ক্রেতারাও ভালোই আসছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি সব নষ্ট করে দিল। এভাবে বৃষ্টি হলে গরু বিক্রি করা কঠিন হয়ে যাবে। গতকালও বৃষ্টি হয়েছিল। আজ সকাল থেকে দুই দফা বৃষ্টি। আমরা গরু এনে বড় বিপাকে পড়ে গেছি।

তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে অনেক গরুর গায়ে ময়লা লেগে গেছে। এতে গরুর সৌন্দর্যও কমে গেছে। গরু বৃষ্টির পানিতে বেশি ভিজলে অসুস্থ হয়ে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, কমলাপুর পশুর হাটেও একই চিত্র দেখা যায়। বৃষ্টির সময় অনেক ব্যাপারী ত্রিপল টাঙিয়ে গরু বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নিজেদের শরীর ভিজিয়ে গরুকে শুকনো রাখার চেষ্টা করছিলেন।

কমলাপুর হাটে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যাপারী মো. মিন্টু মিয়া বলেন, একেকটা গরু নিয়ে আসতে এবার অনেক খরচ হয়েছে। এখন যদি বেচাকেনা না হয় তাহলে বড় লোকসানে পড়তে হবে। বৃষ্টির কারণে দুপুরের পর হাটে ক্রেতা নেই হয়ে গেছে।

তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পরিবহন খরচ কয়েক হাজার টাকা বেশি পড়েছে। সেই খরচ পুষিয়ে নিতে ভালো দামে গরু বিক্রি জরুরি। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে সেই আশা কমে যাচ্ছে।

কমলাপুরের আরেক ব্যাপারী জাকির হোসেন বলেন, গরুর শরীর ভিজে গেলে অনেক সময় ঠান্ডা লাগে। তখন খাবার কম খায়। এত কষ্ট করে গরু লালন করে এনেছি, এখন শুধু চিন্তা হচ্ছে অসুস্থ হয়ে যায় কি না।

তিনি বলেন, বৃষ্টির সময় ক্রেতারা ছাউনির নিচে আশ্রয় নিলেও ব্যাপারীদের বেশিরভাগকেই খোলা জায়গায় থাকতে হয়েছে। এতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

একই হাটে চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা ব্যাপারী নুর ইসলাম বলেন, দুপুরের পর বৃষ্টির পানিতে পুরো হাট কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এতে ক্রেতারা গরুর কাছে আসতে চাইছে না। ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি আছে। এখন এমন বৃষ্টি হলে আমাদের সামনে ঘোর বিপদ।

এদিকে, বৃষ্টির মধ্যেও কিছু ক্রেতাকে পশুর হাটে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তাদের অনেকে বলছেন, বৃষ্টির কারণে হাটে স্বস্তিতে গরু দেখা যাচ্ছে না। আবার কাদা-পানির কারণে পরিবার নিয়ে চলাফেরাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে ভিড় বাড়ে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে যেতে পারে। বেচাকেনার গতি কমে যাওয়া আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যাপারীরা।

বৃষ্টিতে দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর কচুক্ষেত পশুর হাটেও। ঝুম বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাটে আসা ক্রেতা ও ব্যাপারীরা। বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যায়। বৃষ্টি শেষে গরুর ব্যাপারী ও খামারিরা গরুর শরীর থেকে বৃষ্টির পানি মুছে দেন।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

ডিম-মুরগির দাম কারসাজিতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি, খামারিরা বলছেন গরমেই উৎপাদন কম

ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর ডিম ও মুরগির দাম কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেও পোলট্রি উদ্যোক্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে উৎপাদন কমাই দাম বাড়ার কারণ।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিদ্ধ ডিম কতক্ষণের মধ্যে খাওয়া উচিত?

ঝটপট প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে কিংবা সকালের নাশতায় ডিমের জুড়ি নেই। ব্যস্ত সকালে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে রাখেন। পরিবারের সবাই খাওয়ার পরও দু-একটি ডিম বেঁচে গেলে তখন প্রশ্ন আসে-সেগুলো কি পরে খাওয়া যাবে? নাকি সিদ্ধ ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়? সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সিদ্ধ ডিম ফেলে দেওয়ার

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

কলম্বিয়ার নতুন আইনে গবাদিপশুর বাণিজ্য বাঁধা পড়ল বন পর্যবেক্ষণে

২০২৬ সালের ৪ জুন কার্যকর হওয়া লেই ২৫৮৫ কলম্বিয়ার গবাদিপশুর ট্রেসেবিলিটিকে বন পর্যবেক্ষণ ও ভূমির নথির সঙ্গে যুক্ত করেছে; আইনের তিনটি অনুচ্ছেদ গড়ে উঠেছে অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটি-র কাজের ওপর ভিত্তি করে।

CGIAR১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()