নোনা জলের ইলিশ ডিম ছাড়তে স্রোত ঠেলে উজানে মিঠা পানিতে আসে, প্রজনন শেষে ফিরে যায় সাগরে। এই পথে নাব্য কমলে বা ডুবোচর তৈরি হলে ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে গবেষকেরা বলছেন, পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক রাবনাবাদ চ্যানেল ড্রেজিংয়ের পর উজানের কয়েকটি নদ-নদীতে পলি সঞ্চয় ও ডুবোচর বাড়ার প্রভাব পড়ছে ইলিশের পরিযায়ী পথে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৪২ টন ইলিশ উৎপাদন হয়। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টনে এবং পরের অর্থবছরে আরও কমে ৫ লাখ ২৮৮ টনে নামে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ড. আনিছুর রহমান বলেন, 'এর আগে ইলিশ আহরণ কখনো এতটা কমেনি, মানে পরপর তিন বছর কমেনি।'
ড. আনিছুর রহমানের ব্যাখ্যা, পানিপ্রবাহ কমলে পলি জমে চর-ডুবোচর তৈরি হয়, আর ডুবোচর মানে পরিযায়ী পথ নষ্ট হওয়া। রাবনাবাদ, আড়িয়াল খাঁ, হিজলা ও মেঘনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদী মেঘনা হয়ে সাগরে যুক্ত এবং ইলিশের চলাচলের পথ; রাবনাবাদ ড্রেজিংয়ে পানিপ্রবাহের পরিবর্তনকে তিনি বড় প্রভাবক মনে করেন। বাংলাদেশ মেরিটাইম জার্নালে চলতি বছর প্রকাশিত এক গবেষণায়ও ২০২২-২৪ সালের ড্রেজিংয়ের পর রাবনাবাদ-সংলগ্ন চ্যানেলে দ্রুত পলি জমার বিষয় উঠে এসেছে।
'ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প'-এর সাবেক পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতেই আড়াই শর বেশি চর তৈরি হয়েছে; ইলিশের মাইগ্রেশনের পথ, প্রজননক্ষেত্র ও নার্সারি গ্রাউন্ড নষ্ট হচ্ছে, দূষণ বেড়েছে, আর ডুবোচরের কারণে বাচ্চা ইলিশ সাগরে যেতে না পারলে বৃদ্ধি কমে যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. ইয়ামিন হোসেন বলেন, নাব্য কমায় প্রজনন মৌসুমে নদীতে একেবারেই স্রোত থাকে না।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীর রাবনাবাদ, আন্ধারমানিক ও তিয়াখালী নদী সমুদ্র থেকে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে পরিযায়ী মাছের চলাচলের পথ; পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত মূল্যায়নেও রাবনাবাদ ও তিয়াখালীকে ইলিশের পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি নৌপথ গভীর রাখলেই হবে না; ইলিশের পুরো পরিযায়ী পথ, নদীর প্রবাহ, পলি, পানির মান ও প্রজননক্ষেত্র সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ দরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের বক্তব্য জানা যায়নি বলে জানিয়েছে আমাদের সময়।
ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আমাদের সময়





মন্তব্য
(০)