গাজীপুরের সাত বছরের মিনহাজকে স্কুল থেকে ফেরার পথে কুকুর কামড়ালে চিকিৎসকের পরামর্শে জলাতঙ্কের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। তৃতীয় ডোজের সময় হাসপাতাল বা বাজারে টিকা মেলেনি বলে জানান তার বাবা মঞ্জুর হোসেন; বাধ্য হয়ে ছেলেকে নিয়ে আসেন ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে আমার দেশের প্রতিবেদক গোলাম মোস্তফার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জেলায় জেলায় টিকা সংকটের এই চিত্র।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকার বাইরে সংকট তীব্র, ফার্মেসিতে টিকার দাম কয়েক গুণ, আর সরবরাহ কম থাকায় অনেকের ডোজ সময়মতো শেষ হচ্ছে না। চিকিৎসকেরা জানান, গভীর ক্ষতে রক্তপাত হলে অ্যান্টির্যাবিস ভ্যাকসিন (এআরভি) ও র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) দুটোই লাগে; অথচ জেলা-উপজেলার অনেক সরকারি হাসপাতালে আরআইজির সরবরাহ দীর্ঘদিন বন্ধ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) শাখার তথ্যে দেশে বছরে গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ প্রাণীর কামড়ের শিকার হন এবং মারা যান ৫০ জনের মতো; জলাতঙ্কে মৃত্যু ২০২৩ সালে ৪২, ২০২৪ সালে ৫৮ এবং ২০২৫ সালে ৫৯ জন। দেশে বছরে টিকার চাহিদা ৬ থেকে ৭ লাখ; হাসপাতাল ও অধিদপ্তর সূত্রের দাবি, অপারেশনাল প্ল্যান না থাকায় জেলা পর্যায়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
মহাখালীর হাসপাতালের বহির্বিভাগে এখন দিনে গড়ে প্রায় ১,২০০ রোগী আসছেন, বেশির ভাগই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসমা খান বলেন, রোগীর প্রায় ৬৫ শতাংশ বিড়ালের কামড়ের শিকার, যার মধ্যে পোষা বিড়ালও আছে; নারী ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত। কনসালট্যান্ট ডা. আরিফুল বাসার জানান, আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুও জলাতঙ্কে সংক্রমিত হতে পারে; কামড়ের পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষত সাবান-পানিতে ধুয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
তবে সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ র্যাবিস ভ্যাকসিন এবং ৩ লাখ ডোজ ইমিউনোগ্লোবুলিন সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে; প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় এবং এখন কোনো টিকার সংকট নেই।
ছবি: Bryan M. Ilyankoff, U.S. Navy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)