জলাতঙ্ক লক্ষণ প্রকাশের পর প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী, কিন্তু সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে ঠেকানো যায়। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত এক লেখায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আহসানুল হক (রোকন) ভেটেরিনারি ও মানব চিকিৎসাকর্মীদের পেশাগত ঝুঁকি ও সুরক্ষার উপায় তুলে ধরেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে মারা যান, যার বেশির ভাগ এশিয়া ও আফ্রিকায়; মানুষের সংক্রমণের প্রায় ৯৯ শতাংশ কুকুর থেকে। ডব্লিউএইচওর পর্যবেক্ষণে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ৫৬টি মানব জলাতঙ্কে মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
লেখকের মতে, ভেটেরিনারিয়ান ও প্রাণিস্বাস্থ্যকর্মীরা অসুস্থ বা অস্বাভাবিক আচরণের প্রাণী ধরা, মুখগহ্বর ও স্নায়বিক পরীক্ষা বা ক্ষত পরিষ্কারের সময় কামড়, আঁচড় ও লালার সংস্পর্শে আসতে পারেন। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল, তবে রোগীর লালা স্বাস্থ্যকর্মীর ক্ষতে বা চোখ, নাক, মুখের ঝিল্লিতে লাগলে তা সম্ভাব্য পেশাগত সংস্পর্শ হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত।
তাঁর পরামর্শ: নিয়মিত ঝুঁকিতে থাকা পরীক্ষাগারকর্মী, প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণকর্মী ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য সংস্পর্শের আগে টিকা (প্রি-এক্সপোজার) বিবেচনা করা; কাজের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার ও প্রাণীকে নিরাপদে ধরা; আর কামড় বা আঁচড় লাগলে দেরি না করে ক্ষত সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা ও প্রয়োজনে ইমিউনোগ্লোবুলিন নেওয়া।
কেবল মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে জলাতঙ্ক নির্মূল সম্ভব নয় বলে লেখক মনে করেন; কুকুরের অন্তত ৭০ শতাংশকে ধারাবাহিকভাবে টিকার আওতায় আনা জরুরি। কুকুরের টিকাদান, প্রাণীর রোগ শনাক্ত, কামড়ের ঘটনা দ্রুত জানানো, আক্রান্তকে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও জনসচেতনতা মিলিয়ে ভেটেরিনারি সেবা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত 'এক স্বাস্থ্য' উদ্যোগের কথা বলেছেন তিনি।
লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Bryan M. Ilyankoff, U.S. Navy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)