নামাজ মুমিনের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, আর শুধু আদায় করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; কীভাবে, কী উদ্দেশ্যে পড়া হচ্ছে এবং জীবনে এর প্রভাব কতটা, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ডেইলি বাংলাদেশের ধর্ম পাতার এক লেখায় সুরা মাউনের আলোকে এমন তিনটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোতে নামাজিদের সতর্ক করেছে কোরআন।
সুরা মাউনের ৪ থেকে ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, দুর্ভোগ সেই নামাজিদের জন্য, যারা নামাজ সম্পর্কে উদাসীন, যারা লোক দেখায় এবং সামান্য সাহায্য-সহযোগিতাও করতে চায় না। লেখায় লক্ষ করা হয়েছে, এখানে নামাজ না পড়া মানুষের কথা নয়, বরং নামাজ পড়েও তার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া মানুষের কথা বলা হয়েছে। নামাজে সাময়িক অন্যমনস্কতা হলেই কেউ এর আওতায় পড়ে না।
প্রথম বিষয় উদাসীনতা: নামাজের সময়কে গুরুত্ব না দেওয়া, ইচ্ছা করে দেরি করা, নামাজের বিধান ও হক আদায়ে অবহেলা। সহিহ মুসলিমের ৮৫ নম্বর হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমলের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সময়মতো নামাজ আদায় করা।
দ্বিতীয় বিষয় লোক দেখানো। ইবাদতের মূল কথা ইখলাস, অর্থাৎ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করা; মানুষের প্রশংসা বা ধার্মিক হিসেবে পরিচিত হওয়ার জন্য ইবাদত তার পরিপন্থী। সুরা মাউনের ৬ নম্বর আয়াত ছাড়াও সুরা নিসার ১৪২ নম্বর আয়াতে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হয়েছে, তারা নামাজে দাঁড়ায় অলসভাবে এবং মানুষকে দেখায়।
তৃতীয় বিষয় মানুষের পাশে না দাঁড়ানো। সুরার শেষ আয়াতে বলা হয়েছে, তারা সামান্য সাহায্য-সহযোগিতাও করতে চায় না। লেখায় বলা হয়েছে, নামাজের প্রভাব মসজিদের বাইরে মানুষের চরিত্র, আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে প্রতিফলিত হওয়া উচিত; অসহায়ের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো ও সামর্থ্যমতো সাহায্য করা একজন মুমিনের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ছবি: Jubair1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ


মন্তব্য
(০)