মানুষের বিশ্বাস, চিন্তা, নৈতিকতা ও আচরণের কেন্দ্র হৃদয়। তাই ইসলাম বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি হৃদয়ের অবস্থাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশ রূপান্তরে লেখা এক নিবন্ধে মুফতি মাহবুব হাসান জানিয়েছেন, কোরআনে শতাধিকবার হৃদয়ের কথা এসেছে।
তিনি সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দেহে এক টুকরা গোশত আছে; সেটি ভালো থাকলে পুরো দেহ ভালো থাকে, নষ্ট হলে পুরো দেহ নষ্ট হয়, আর সেটি হলো কলব বা হৃদয়। বুদ্ধির আধার হৃদয় না মস্তিষ্ক, তা নিয়ে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর ভিন্ন মত থাকলেও দুটি একটি অপরটির পরিপূরক বলে উল্লেখ করেন লেখক।
কোরআনে প্রশংসিত হৃদয়ের মধ্যে লেখক তুলে ধরেছেন অনুগত, সুস্থ, বিনীত, ভীতসন্ত্রস্ত, তাকওয়াবান, প্রশান্ত, হেদায়েতপ্রাপ্ত ও প্রাণবন্ত হৃদয়ের কথা। যেমন সুরা তাগাবুনের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে আল্লাহর প্রতি ইমান আনে, আল্লাহ তার হৃদয়কে হেদায়েত দান করেন।
অন্যদিকে নিন্দিত হৃদয়ের তালিকায় আছে অসুস্থ, অন্ধ, উদাসীন, অহংকারী, কঠোর, মোহরকৃত ও বাঁকা হৃদয়। সুরা হজের ৪৬ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক বলেন, প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ হয় না, অন্ধ হয় বক্ষে থাকা হৃদয়। সুরা আলে ইমরানের ১৫৯ নম্বর আয়াতে কঠোর হৃদয়ের মানুষ থেকে লোকে দূরে সরে যাওয়ার কথা এসেছে।
লেখকের মতে, কোরআনে হৃদয়ের ভালো ও মন্দ দুই দিকই তুলে ধরা হয়েছে, যাতে মানুষ নিজের অবস্থান চিনতে পারে এবং কলুষিত হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করে। পরিশুদ্ধ হৃদয়ে ইবাদতের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করে তিনি লেখা শেষ করেছেন।
ছবি: Hayri Brahimbashev / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)