দুনিয়ার নদী যেমন মানুষের জীবন, জীবিকা ও প্রকৃতিকে সজীব রাখে, কোরআনের বর্ণনায় জান্নাতের নদীগুলোও তেমনি মুমিনদের জন্য আনন্দ ও প্রশান্তির উৎস। তবে জান্নাতের নেয়ামত দুনিয়ার কোনো কিছুর সঙ্গে পুরোপুরি তুলনীয় নয়।
সুরা মুহাম্মদের ১৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মুত্তাকিদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তাতে আছে নির্মল পানির নদী, অপরিবর্তনীয় স্বাদের দুধের নদী, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু পানীয়ের নদী এবং পরিশোধিত মধুর নদী; সেখানে আছে সব রকম ফলমূল এবং প্রতিপালকের কাছ থেকে ক্ষমা।
দুনিয়ার পানিতে কখনো ময়লা, দুর্গন্ধ বা স্বাদের পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু জান্নাতের পানির নদী হবে নির্মল ও বিশুদ্ধ। দুনিয়ার দুধ কিছু সময় পর স্বাদ হারায়, আর জান্নাতের দুধের নদীর স্বাদ কখনো বদলাবে না।
আয়াতে যে পানীয়ের নদীর কথা এসেছে, তা দুনিয়ার মদের মতো নয়; দুনিয়ার মদ বিবেক-বুদ্ধি নষ্ট করে, আর জান্নাতের পানীয় হবে সুস্বাদু ও প্রশান্তিদায়ক, তাতে মাথাব্যথা বা ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া থাকবে না। পরিশোধিত মধুর নদীতেও থাকবে না কোনো ময়লা বা অপবিত্রতা।
আয়াতের শেষাংশে সব ধরনের ফলমূল ও আল্লাহর ক্ষমার কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ জান্নাতের নেয়ামত পানীয় ও খাদ্যে সীমাবদ্ধ নয়। লেখায় বলা হয়েছে, এসব বর্ণনা মুমিনকে পরকালের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং নেক আমল ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের তাগিদ দেয়।
লেখাটি দেশ রূপান্তরের ইসলাম ডেস্কের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি।
ছবি: Unknown author / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)