যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ২০২৬ সালের মৌসুম কেটেছে চরম আবহাওয়ার দোলাচলে—নিচু জমি পানিতে ডুবেছে, উঁচু জমিতে ফসল পুড়েছে, কখনো একই খেতেই দুই চিত্র। তবু আতঙ্কিত না হয়ে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন একজন আঞ্চলিক জলবায়ুবিদ। খবরটি দিয়েছে ফার্ম প্রগ্রেস।
জুনের বৃষ্টির পর জুলাই ও আগস্টে আরও বৃষ্টি আর স্থানীয় বন্যা, তারপর আগস্টের শেষে টানা দুই সপ্তাহ গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া। মিডওয়েস্টার্ন রিজিওনাল ক্লাইমেট সেন্টারের পরিচালক বেথ হল বলেন, মনে হচ্ছে এক চরম অবস্থা থেকে আরেক চরম অবস্থায় যাচ্ছি। তিনি জানান, গত ১০০ বছরে বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২ ইঞ্চি বেড়েছে, আর এখন তা কম দিনে বেশি পরিমাণে নামে।
হল এই অস্থিরতার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করলেও বলেন, মহাবিপর্যয়ের কিছু তিনি দেখছেন না। তাঁর ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে, তবে ইন্ডিয়ানা ও আশপাশের রাজ্যের মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই; সচেতন থাকতে হবে যে চরম আবহাওয়া আরও চরম হতে পারে। এ বছর ইলিনয়ে রেকর্ড টর্নেডো হয়েছে, ইন্ডিয়ানাও তার ধাক্কা পেয়েছে; জেট স্ট্রিম সরে গেলে ঝড়ের এলাকা বদলাতে পারে, যদিও বছর বছর তারতম্য অনেক।
তাঁর পরামর্শ, বাজেটের একটি অংশ আলাদা রেখে নতুন ফসল বা হাইব্রিড জাত পরীক্ষা করা। পারডু এক্সটেনশনের ভুট্টা বিশেষজ্ঞ ড্যান কুইন খাটো জাতের ভুট্টা পরখের কথা বলেন, যা ঝড়ে অনেক ভালোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, এবং বড় ওঠানামা সইতে পারে এমন হাইব্রিড বেছে নিতে বলেন।
কুইন মৌসুমজুড়ে ভাগে ভাগে নাইট্রোজেন দেওয়া, নিষ্কাশনের জন্য টাইল বসানো এবং আগাম রোপণ পরীক্ষার কথাও বলেন। তাঁর মতে, রাজ্যের বেশির ভাগ জায়গায় সময়মতো বা আগেভাগে রোপণ করা জমি সারা বছর ভালো করেছে; ২০২৬ সালে কী কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখে ২০২৭ সালের কৌশল ঠিক করতে বলেন তিনি। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অ্যালিসন লিঞ্চ।
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)