খালের পানির কম ব্যবহার আর পানি-খেকো ফসলের ব্যাপক চাষ ভারতের পাঞ্জাবকে দেশের অন্যতম তীব্র ভূগর্ভস্থ পানির সংকটে ঠেলে দিয়েছে, আর সেই সংকট রাজ্যজুড়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়াচ্ছে—দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি The Economic and Political Weekly-তে প্রকাশিত 'আনইকুয়াল বার্ডেন অব গ্রাউন্ডওয়াটার ডিপ্লিশন ইন পাঞ্জাব' গবেষণাপত্রে দেখা যায়, রাজ্যের ৭৬.৪৭ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি ব্লক 'অতিশোষিত'—ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ—আর মাত্র ১৩.০৭ শতাংশ 'নিরাপদ' শ্রেণিতে।
গবেষণা বলছে, পাঞ্জাবের বেশির ভাগ এলাকায় জলাধারের প্রাকৃতিক পুনর্ভরণের চেয়ে অনেক দ্রুত পানি তোলা হচ্ছে, কারণ গম ও ধানের মতো পানি-খেকো ফসলে কৃষি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল; স্তর নামায় কৃষকেরা বিপুল খরচে আরও গভীরে কুয়া খুঁড়ছেন, সঙ্গে ভূমি বসে যাওয়া, দূষণ ঢোকা ও ভূপৃষ্ঠের জলাশয় শুকানো। বাথিন্ডার Central University of Punjab (সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব পাঞ্জাব)-এর অর্থনীতির অধ্যাপক ও গবেষণাপত্রের লেখক Sandeep Kaur (সন্দীপ কৌর) বলেন, খুব অল্পসংখ্যক কৃষক খালের পানিতে সেচ দেন।
কে সামলাতে পারবেন, তা ঠিক করে পুঁজি। বড় কৃষকেরা উচ্চক্ষমতার পাম্পসহ আরও বোরওয়েল বসিয়ে গভীরের পানি তোলেন, চাষের খরচ কমান এবং ছোট কৃষকের চেয়ে খরচপ্রতি বেশি আয় করেন; ছোট কৃষকের জমির বড় অংশ লিজ নেওয়া বলে একক জমিতে পাম্প কম। কৌরের কথায়, "পরিবেশের অবক্ষয়ে যাঁদের অবদান সবচেয়ে বেশি এবং যাঁরা পানির টেকসইতাকে হুমকিতে ফেলছেন, সেই বড় কৃষকেরাই আয়ে সবচেয়ে লাভবান; আর পরিবেশের অবক্ষয় ও পানির অভাবের মূল্য যাঁরা দিচ্ছেন, সেই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের অবদান সবচেয়ে কম। এতে স্পষ্ট, পাঞ্জাবের ভূগর্ভস্থ পানির সংকট রাজ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য গভীর করেছে।"
রঞ্জিত সাগর ও শাহপুরকান্ডি বাঁধ প্রকল্পের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী S.K. Saluja (এস কে সালুজা) দ্য হিন্দুকে বলেন, পাঞ্জাবের ঢালাও বিনা মূল্যের কৃষি বিদ্যুৎ "যে দুর্বল ক্ষুদ্র কৃষকদের রক্ষার জন্য, তাঁদেরই অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করছে": পুঁজিওয়ালা কৃষকেরা বাড়তি নলকূপের সংযোগ নেন, বোরওয়েল গভীর করে চলেন এবং উচ্চক্ষমতার সাবমার্সিবল চালিয়ে "পাঞ্জাবের বেশির ভাগ ভূগর্ভস্থ পানি টেনে নেন, অনিয়ন্ত্রিত ছায়া-অর্থনীতিকে জ্বালানি জোগান"; আর কুয়া গভীর করার পুঁজি না থাকা ছোট কৃষকেরা "প্রতিবেশী বড় কৃষকের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে পানি কিনতে বাধ্য হন।" তাঁর মতে এই ভর্তুকি ধনী জমিদারদের সমৃদ্ধ করে, রাজকোষ নিঃশেষ করে, ছোট কৃষকের সর্বনাশ ত্বরান্বিত করে।
কৌর বলেন, সরকারের বিনা মূল্যের বিদ্যুৎ পুনর্বিবেচনা করা উচিত, ড্রিপ ও স্প্রিংকলারের মতো পানি-সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে প্রণোদনা দেওয়া উচিত, বড় কৃষকদের ধান থেকে সরে বৈচিত্র্যে যেতে উৎসাহিত করা উচিত এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে আরও ন্যায্য প্রবেশাধিকারের ব্যবস্থা গড়া উচিত, যাতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন; চালু কর্মসূচিগুলো সমস্যার পূর্ণ পরিধি ধরতে পারছে না। সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের বোরো অঞ্চলেও ছবিটা চেনা—শুষ্ক মৌসুমে স্তর নামলে অগভীর নলকূপের মালিকেরা একইভাবে ছোট প্রতিবেশীদের কাছে পানি বেচেন।
ছবি: Jaspinder Singh Duhewala / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দ্য হিন্দু





মন্তব্য
(০)