নবীজির (সা.) প্রথম বিবাহ খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের (রা.) সঙ্গে, আনুমানিক ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় লেখক মনযূরুল হক সিরাতের ধ্রুপদি গ্রন্থের সূত্র ধরে এই ঘটনার সময়, প্রেক্ষাপট ও বিতর্কগুলো তুলে ধরেছেন। তাঁর হিসাবে দ্বিতীয় শাম সফর থেকে ফেরার দুই-আড়াই মাস পর, হিজরিপূর্ব ২৮ সনের রবিউল আউয়ালের প্রথমার্ধে বিবাহ হয়; নবীজির বয়স তখন পঁচিশ বছরের কিছু বেশি।
খাদিজার (রা.) বয়স নিয়ে মতভেদ আছে। ইবনে সাদ ও ইবনে হিশামসহ বেশির ভাগ বর্ণনায় চল্লিশ বছর বলা হয়েছে। ইবনে ইসহাকের একটি বর্ণনার ভিত্তিতে কেউ কেউ আটাশ বছরকে অগ্রাধিকার দেন, আবার ত্রিশ বা পঁয়ত্রিশ বছরের মতও পাওয়া যায়। লেখকের মতে, বর্ণনার সংখ্যা ও প্রাচীনত্ব বিবেচনায় অনেক গবেষক এখনো চল্লিশের মতকেই অগ্রাধিকার দেন।
সিরাতের বর্ণনায় এসেছে, নবীজির সততা ও বাণিজ্যিক প্রজ্ঞায় মুগ্ধ হয়ে খাদিজা (রা.) নাফিসা বিনতে মুনইয়াহকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাঠান। নবীজি সম্মতি দেওয়ার পর বিবাহের মজলিসে খাদিজার অভিভাবক ছিলেন চাচা আমর ইবনে আসাদ, কারণ তাঁর বাবা আগেই মারা গিয়েছিলেন। খাদিজার বাবাকে মদ পান করিয়ে সম্মতি আদায়ের যে বর্ণনা প্রচলিত, ইবনে কাসির, ইবনে হাজার আসকালানি ও সুহাইলিসহ অধিকাংশ হাদিসবিশারদ তা দুর্বল বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বনু হাশিমের পক্ষে আবু তালিব বক্তব্য দেন। প্রসিদ্ধ বর্ণনায় দেনমোহর ছিল বিশটি তরুণ উট, যার দায়িত্ব নেন আবু তালিব ও হামজা; কিছু বর্ণনায় এর মূল্য ৫০০ দিরহাম রুপার সমান বলা হয়েছে। বিবাহের পর অলিমার আয়োজন হয়।
এই বিবাহের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জায়েদ ইবনে হারিসার (রা.) কাহিনি। খাদিজার ভাতিজা হাকিম ইবনে হিজাম উকাজের মেলা থেকে জায়েদকে কিনে ফুফুকে উপহার দেন; বিয়ের পর খাদিজা তাঁকে নবীজিকে দেন, আর নবীজি তাঁকে মুক্ত করে সন্তানের মর্যাদা দেন।
এই দাম্পত্যে ছয় সন্তানের জন্ম হয়: আল-কাসিম ও আবদুল্লাহ, যাঁরা শৈশবে মারা যান, এবং জয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতেমা। মক্কার যে বাড়িতে বিবাহ হয়েছিল, সেটি ‘দারু খাদিজা’ নামে পরিচিত; খাদিজার (রা.) মৃত্যু পর্যন্ত পঁচিশ বছর নবীজি দ্বিতীয় কোনো বিবাহ করেননি।
লেখাটি প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় প্রকাশিত; লেখক মনযূরুল হক।
ছবি: G. Eric or Edith Matson / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)