ঈদুল আজহা সামনে রেখে সারাদেশে জমতে শুরু করেছে পশুর হাট। বর্ষার এ সময়ে পশুর হাটে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। বিশেষ করে সোমবার (২৬ জুন) থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা। এদিন রাজধানীর কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হয়েছে। আর আজ মঙ্গলবার (২৭ জুন) সকাল থেকে ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন পশুর হাটের বিক্রেতারা। কমেছে ক্রেতার আনাগোনা।
সরজমিন রাজধানীর আফতাব নগর ও তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠ হাট ঘুরে দেখা গেছে, শেষ দুদিন হাট জমজমাট থাকার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই ক্রেতার উপস্থিতি কম। আগত ক্রেতাদের হাটে ঘুরতে হচ্ছে কাদা পেরিয়ে। সব মিলে বৃষ্টিতে নাকাল গরুর হাট।
দেখা গেছে, দফায় দফায় বৃষ্টির পর কাদা আর গোবরে একাকার গরু রাখার জায়গাগুলো। বৃষ্টির মধ্যে কাদা-পানি থেকে গরুকে রক্ষা করতে ব্যস্ত খামারি আর ব্যাপারীরা। বিভিন্ন পাশ থেকে বালু নিয়ে গরুর দাঁড়ানোর জায়গা উঁচু করা হয়েছে। রাখার জায়গাগুলো ত্রিপল ও পলিথিন দিয়ে ওপরে দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী ছাউনি।
আফতাবনগরে গরু কিনতে আসা হালিম চৌধুরী বলেন, বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ঠিকমতো গরু দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আজ মনে হয় কেনা যাবে না। রাস্তাঘাটের অবস্থাও ভালো না। গরু নিতে সমস্যা হবে, পরে আবারও আসতে হবে।
ফরিদপুর থেকে গরু নিয়ে আসা এনামুল বলেন, মূল বিক্রিটা আজ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকে বৃষ্টিতে সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। আজ ও আগামীকাল বুধবার হাট আছে। কখন গরু বিক্রি হয় তার নিশ্চয়তা নেই। এমন আবহাওয়া থাকলে অনেক গরু অবিক্রিত থেকে যাবে। আমাদের লোকসান হয়ে যাবে।
দুই হাট ঘুরে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া, পাবনা, মেহেরপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, নাটোরের খামারি ও পাইকাররা তাদের গরু নিয়ে এসেছেন হাটে। মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের বিভিন্ন গলিতে গরু রাখা হয়েছে। আজও অনেক পশু খামার থাকা হাটে নেওয়ার কথা আছে। তবে বৃষ্টির কারণে সে সব পরিবহনের সমস্যা হচ্ছে।
নাটোরের ব্যবসায়ী রাহিদ বলেন, আজ গরু আসার কথা নাটোর থেকে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে গরু আনতে পারিনি।
তিনি বলেন, হাটে গরু রাখার মত কোনো শুকনা জায়গা নেই। যেগুলো এখানে রয়েছে সেগুলোর পরিচর্চা করতেই অনেক সমস্যা হচ্ছে।
এনএইচ/এমআইএইচএস/এমএস





মন্তব্য
(০)