রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুসহ মৌসুমি রোগীর চাপ বেড়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দাজুড়ে ভর্তি আছেন ১৩০ জন রোগী, যাঁদের ২৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্তদের বড় অংশ সম্প্রতি ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে গ্রামে ফিরেছেন; ঢাকায় থাকতে বা বাড়ি ফিরে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। চিকিৎসাধীন হালিমা বেগম ও ঢাকা থেকে আসা নাহিদ জানান, জ্বর নিয়ে বাড়ি ফেরার পর পরীক্ষায় তাঁদের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
বহির্বিভাগের রোগীরা বলছেন, টিকিট পেতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পার্বতীপুর থেকে আসা জাহানারা বেগম জানান, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তবে চিকিৎসকের দেখা মিলেছে। ভর্তি রোগীদের নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগও আছে।
সংকটের মূলে জনবল। ২০১১ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল বাড়ানো হয়নি। চিকিৎসকের ২৩টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ৯ জন, কর্মচারীর ৯৯টি পদ খালি। গত আগস্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বদলি হওয়ার পর থেকে জরুরি প্রসূতি সেবা ও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার বন্ধ, ফলে অন্তঃসত্ত্বাদের ৪৮ কিলোমিটার দূরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
উপজেলার অন্য সেবাকেন্দ্রের অবস্থাও একই। ২০২৩ সালে চালু হওয়া মাদারগঞ্জ, খালাশপীর ও চতরা মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র তিন বছরেও জনবল না পাওয়ায় পড়ে আছে। ১৫টি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই, তাই পাশের সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থেকেও রোগীরা পীরগঞ্জে আসছেন।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, "বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার পীরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।" তিনি জানান, বহির্বিভাগে দৈনিক ছয়-সাত শ রোগী সামলাতে হচ্ছে, আর সীমিত জনবল ও ওষুধ নিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত বরাদ্দ ও জনবল বাড়ানো জরুরি।
ঢাকা থেকে ফেরা জ্বরের রোগী গ্রামে ডেঙ্গু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে; জ্বর হলে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানোই এখন প্রথম সতর্কতা।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)