ঢাকার একটি হাসপাতালে রক্ত ও প্রস্রাবের সংক্রমণে ভোগা সত্তরোর্ধ্ব এক নারীকে চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে সাত থেকে আট ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। ওই নারী অনেক সময় ফার্মেসি থেকে নিজেই অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেতেন। প্রথম আলোর সহসম্পাদক অনিন্দ্য সাইমুমের এক প্রতিবেদনে পেনিসিলিন আবিষ্কারের ইতিহাসের সঙ্গে এই সংকটের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
১৯২৮ সালে লন্ডনের সেন্ট মেরি'স হাসপাতালে স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ছুটি থেকে ফিরে দেখেন, ব্যাকটেরিয়ার একটি পেট্রি ডিশে নীলচে সবুজ ছত্রাক জন্মেছে এবং তার চারপাশে ব্যাকটেরিয়া নেই। ছত্রাকটি পেনিসিলিয়াম গোত্রের বলে শনাক্ত করে তিনি পদার্থটির নাম দেন পেনিসিলিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অক্সফোর্ডের হাওয়ার্ড ফ্লোরির নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা এটিকে চিকিৎসায় কাজে লাগান, আর ১৯৪৫ সালে ফ্লেমিং, ফ্লোরি ও আর্নস্ট চেইন যৌথভাবে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান।
ফ্লেমিং নোবেল গ্রহণের অনুষ্ঠানেই সতর্ক করেছিলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে ব্যাকটেরিয়া, মানুষ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামান্য কাটাছেঁড়া, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা বা ডায়রিয়াতেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াই এখন বড় কারণ। কৃষি, গবাদিপশু, মুরগি, ডিম ও মাছ উৎপাদনেও খামারিরা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন, আর খাদ্যের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে ঢুকছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছিল, হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে তীব্রভাবে বাড়ছে। ডব্লিউএইচওর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাজারে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আসাও স্থবির হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও গভীর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তহমিনার ২০২১ সালের এক নিবন্ধের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের এক গবেষণায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বহু ওষুধপ্রতিরোধী 'সুপারবাগ' প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ঢাকার একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০২০-২১ সালের আরেক গবেষণায় ব্যবহৃত ১৪টি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিটিই কোনো না কোনো মাত্রায় অকার্যকর পাওয়া যায়, একটি ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রতিবেদনের উপসংহার, এ বিপদ থেকে বাঁচার বড় উপায় সচেতনতা এবং অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার কমানো; রোগী, চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী ও সরকার সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ছবি: Convallaria majalis / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)