পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস, নতুন নাম পিএমওএস) শুধু গাইনি বা সন্তান ধারণের সমস্যা নয়; বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই হরমোন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। ২২ সেপ্টেম্বর সমকাল কার্যালয়ে প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া ও সমকালের যৌথ আয়োজনে এক গোলটেবিল বৈঠকে তাঁরা এ কথা বলেন; বৈজ্ঞানিক সহযোগী ছিল রেনাটা পিএলসি। সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পিসিওএস সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়।
বৈঠকের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় পিসিওএসের প্রকোপ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ, কিশোরীদের মধ্যে ৬ থেকে ৮ শতাংশ। সচেতনতার অভাবে অনেকে ভুল চিকিৎসা নিচ্ছেন, অথচ শুরুতে ওজন নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস বদলালে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি সতর্ক করেন, প্রজননক্ষম বয়সে দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকলে জরায়ুর ভেতরের আস্তরণে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বয়স বাড়লে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও থাকে।
অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, পিসিওএসকে শুধু ডিম্বাশয়ের সমস্যা ভাবার সুযোগ নেই; গ্রামে অনেক সময় একে টিউমার ভেবে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার করা হয়। পিসিওএস থাকলেই সন্তান হবে না, এ ধারণাও ভুল; যথাযথ চিকিৎসায় সন্তান ধারণ সম্ভব। মুখে অবাঞ্ছিত লোম, ব্রণ ও ত্বকের দাগ নিয়ে কিশোরীরা সামাজিকভাবে বিব্রত হয়, তাদের কাউন্সেলিং দরকার।
অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার পিসিওএসকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখে সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা ও ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো একটি জাতীয় রেজিস্ট্রি চালুর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একাধিক বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে রোগীর নিজের পকেটের খরচ বাড়ে, তাই সরকারি কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ কর্নারে পিসিওএসের পরামর্শ ও সেবা যুক্ত করা যেতে পারে। অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি রেফারেল পদ্ধতি ও জাতীয় নীতিমালার কথা বলেন এবং জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজে একটি পিসিও কর্নার চালুর পরিকল্পনা আছে।
অধ্যাপক ডা. শেখ জিন্নাত আরা নাসরীন বলেন, পিসিওএস আজীবনের রোগ, কারও ক্ষেত্রে সামান্য ওষুধেই ডিম্বাণু অতিরিক্ত বড় হয়ে 'হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম' নামের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যাতে ১ শতাংশ রোগীর আইসিইউ লাগে। ডা. এফ এম এনামুল হকও সতর্ক করেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে ডিম্বস্ফোটনের ওষুধ বা ইনজেকশন নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
মডারেটর ডা. শারমিন আব্বাসি বলেন, অনিয়মিত মাসিক বা আলট্রাসনোগ্রামে ওভারিতে সিস্ট দেখলেই পিসিওএস নিশ্চিত, আর কখনো সন্তান হবে না, এমন ধারণা ভুল; তৃণমূলের নারীদের কাছে সহজ ভাষায় সঠিক তথ্য পৌঁছানো জরুরি। বৈঠকে অধ্যাপক ডা. কোহিনুর বেগম, ডা. তাসবিরুল ইসলাম ও ডা. শাকিল ফরিদও বক্তব্য দেন।
ছবি: Anne Mousse / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)