ফজরের নামাজে উঠে কলে পানি না পাওয়া আর সকাল ৭টার পর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এখন পটুয়াখালী পৌর এলাকার অনেক পরিবারের রোজকার অভিজ্ঞতা, জানিয়েছেন সদর রোডের গৃহিণী জাহিদা খানম শিমুলসহ কয়েকজন বাসিন্দা। অনেককে রাত জেগে পানি ধরে রাখতে হচ্ছে, কাপড় ধোয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি।
পৌর এলাকায় এখন ৯ হাজার ৪৮২ জন গ্রাহকের জন্য ১২টি পাম্প হাউস ও ১৪টি উৎপাদক নলকূপ দিয়ে ১০৬ কিলোমিটার পাইপলাইনে ১০ হাজার ৩৩২ ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া ৫৭২টি হস্তচালিত টিউবওয়েল আছে।
স্বাধীনতার পর শহরে ১,৮০০ থেকে ১,৯০০ টিউবওয়েল ছিল, যেগুলোতে ৮৫০ থেকে ৯০০ ফুট গভীরে সুপেয় পানি মিলত। জনসংখ্যা ও পৌর সীমানা বাড়া এবং বহুতল ভবনে পাম্প বসানোর ফলে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ায় সেসব টিউবওয়েল এখন অচল।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, গ্রাহক বাড়ায় পৌরসভার পানিতে চাহিদা মিটছে না। সরকারের ২২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে; পটুয়াখালীর জন্য ৬টি নতুন উৎপাদক নলকূপ, ৭টি ওভারহেড ট্যাংক ও নতুন পাইপলাইনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়।
পাশাপাশি পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রস্তাবে আছে চারটি ওভারহেড ট্যাংকে ১৬ কোটি টাকা, ১০টি উৎপাদক নলকূপে ৩ কোটি ২০ লাখ, ২০টি জেনারেটরে ৭ কোটি টাকা এবং ১৬০ মিলিমিটার ব্যাসের ২২ কিলোমিটার ও ১১০ মিলিমিটার ব্যাসের ২০ কিলোমিটার পাইপলাইনে যথাক্রমে ৮ কোটি ৮০ লাখ ও ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে পৌরসভার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট অনেকটাই দূর হবে।
ছবি: Francisco Anzola / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: দৈনিক বাংলা




মন্তব্য
(০)