পদ্মা ও মধুমতির পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরের পাঁচটি উপজেলায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তীব্র স্রোতে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা; ভিটেমাটি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আলফাডাঙ্গা উপজেলা। মধুমতির অব্যাহত ভাঙনে টগরবন্দ, গোপালপুর, বুড়াইচ, বানা ও পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ঝুঁকিতে; স্থানীয়দের হিসাবে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০ একর ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীতে গেছে। চাপুলিয়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রের কয়েকটি ঘর তলিয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু পরিবার গৃহহীন হয়ে পলিথিন টাঙিয়ে থাকছে। ভাঙন চললে চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা, মোকছেদ মোল্লা এতিমখানা মাদ্রাসা, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান ও একটি পোস্ট অফিসও নদীতে যাওয়ার আশঙ্কা।
পদ্মার ভাঙনে সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ও ডিক্রীরচর ইউনিয়নের তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক; অনেকে ঘর নদীতে যাওয়ার আগেই টিনের চাল, খুঁটি ও দেয়ালের ইট খুলে নিরাপদ জায়গায় সরাচ্ছেন। সদরপুর ও চরভদ্রাসনের ঢেউখালি, চর নাসিরপুর, গাজীরটেক ও চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নে প্রতিদিনই নতুন জায়গা ভাঙছে; ভাঙ্গায় আড়িয়াল খাঁ ও তার শাখা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি ও বসতভিটা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
বাসিন্দারা বলছেন, বসতভিটার পাশাপাশি ফসলি জমি নদীতে যাওয়ায় জীবিকাও অনিশ্চিত; হঠাৎ ভাঙনে অনেকে মালামাল সরানোর সুযোগও পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় ভাঙন তীব্র হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেই—বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ শুরু হবে; নদীতীর সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে, যা বাস্তবায়িত হলে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো স্থায়ী সুরক্ষায় আসবে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধের কাজও দ্রুত শুরু করতে হবে; না হলে পদ্মা-মধুমতির আগ্রাসনে আরও বহু গ্রাম, কৃষিজমি ও বসতভিটা চিরতরে হারিয়ে যাবে। পানি বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)