গত মাসে ক্লিভল্যান্ড বন্দরে এক নিয়মিত অভিযানে মার্কিন মৎস্য ও বন্যপ্রাণী সেবার (ইউএস ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস) আলপেনা কার্যালয়ের দল এক বছর বয়সী তিনটি সুস্থ লেক স্টার্জন ধরে। প্রতিটির শরীরে বসানো ছিল একটি পিআইটি ট্যাগ, যা দেখায় মাছগুলো উইসকনসিনের জেনোয়া জাতীয় মৎস্য হ্যাচারিতে বড় করা ২,০০০ মাছের একটি দলের, যেগুলো আগের শরতে ছাড়া হয়েছিল। দুটি ছাড়া হয়েছিল ক্লিভল্যান্ড শহরের ভেতরে কায়াহোগা নদীতে, একটি প্রায় ২০ মাইল দক্ষিণে কায়াহোগা ভ্যালি জাতীয় উদ্যানে।
ছাড়ার সময় মাছগুলো ছিল প্রায় ৬ ইঞ্চি; আবার ধরা পড়ার সময় দুটি ১৭ ইঞ্চি, একটি ১৬ ইঞ্চি। সংস্থাটির মৎস্য জীববিজ্ঞানী জেসন ফিশার বলেন, এত দ্রুত বৃদ্ধি অনেকের কাছেই খানিকটা অবাক করার মতো ছিল। লেক স্টার্জন ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং কোটি কোটি বছর ধরে প্রায় অপরিবর্তিত; ওহাইওতে এটি বিপন্ন। গত শতকে অতিরিক্ত মাছ ধরা ও বাঁধে নদীগুলোর ক্ষতি হয়েছে, আর ১৯৭২ সালের ক্লিন ওয়াটার অ্যাক্টের আগে কায়াহোগা এতটাই দূষিত ছিল যে তাতে আগুন ধরে যেত এবং নদীটিকে প্রাণহীন ধরা হতো।
ফিশারের অনুমান, গত বছর ছাড়া ২,০০০ স্টার্জনের প্রায় অর্ধেক এখনও লেক ইরিতে বেঁচে আছে। ছোট মাছগুলো পানকৌড়ি, গাংচিল, বক এবং ওয়ালাইয়ের মতো বড় মাছের সহজ শিকার। এ বছর আরও ১,৫০০টি স্টার্জন কায়াহোগায় ছাড়া হয়েছে, যার ৭৫০টি ক্লিভল্যান্ডের রিভারগেট পার্কে, যেখানে পরিবারগুলো সারি বেঁধে মাছ ছেড়েছে। পুরুষ মাছ প্রায় ১০ বছরে আর স্ত্রী মাছ প্রায় ২০ বছরে প্রজননক্ষম হয়, তাই মাছগুলো নিজে থেকে ডিম ছাড়তে ফিরছে কি না, তা জানতে প্রায় ২৫ বছর মাছ ছাড়তে হবে বলে আশা করছেন জীববিজ্ঞানীরা।
ওহাইও বন্যপ্রাণী বিভাগের এরিক ওয়েইমার জানান, রাজ্যের কর্মসূচি শুরু হয় ২০১৮ সালে মমি নদীতে; ২০২৫ সালে কায়াহোগায় পূর্ণমাত্রায় এবং স্যান্ডাস্কি নদীতে প্রথমবার মাছ ছাড়া হয়। মমি নদীতে মাছ এত ভালোভাবে বেঁচে আছে যে এখন প্রশ্ন উঠছে, নদীর আবাসস্থল যতটা ধারণ করতে পারে তার চেয়ে বেশি মাছ ছাড়া হচ্ছে কি না। বন্যপ্রাণী বিভাগ, ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে ও মৎস্য সেবার বসানো শব্দ-সংকেত ট্যাগ দেখাচ্ছে, কায়াহোগার মাছ এক মাসের মধ্যে হ্রদে পৌঁছেছে এবং অনেকগুলো ক্লিভল্যান্ড বন্দরের আশপাশেই থেকে গেছে।
টলেডো বিশ্ববিদ্যালয়ে মিঠাপানি বিজ্ঞানী উইলিয়াম হিন্টজের দল লেক ইরির পশ্চিম অববাহিকাজুড়ে ট্যাগ লাগানো স্টার্জন অনুসরণ করে দেখছে কোনগুলো বাঁচে এবং কোন আবাসস্থল ব্যবহার করে। তিনি জানান, স্টার্জন ঘ্রাণ দিয়ে নদীর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য চিনে নেয় এবং ডিম ছাড়তে নিজের নদীতেই ফিরতে হয়। ধীরে বাড়ে, দীর্ঘ বাঁচে এবং প্রতিবছর ডিম ছাড়ে না বলে এ মাছ পরিবেশের পরিবর্তনে খুব সংবেদনশীল। তাঁর মতে, নদী পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বদলে ফেলা বাস্তুতন্ত্র; মমি নদী একসময় গ্রেট ব্ল্যাক সোয়াম্পের ভেতর দিয়ে বইত, যা উনিশ শতকের শেষ দিকে চাষের জমির জন্য শুকিয়ে ফেলা হয়।
বার্ষিক এই মাছ ছাড়ার অন্যতম অংশীদার ক্লিভল্যান্ড মেট্রোপার্কসের জলজ জীববিজ্ঞানী মাইকেল ডারকালেক বলেন, এই মাছগুলোই দেখায় কায়াহোগা কতটা বদলেছে। মূল প্রতিবেদনটি ফার্ম অ্যান্ড ডেইরির জন্য লিখেছেন পল রাউলি।
ছবি: জোয়ানা গিলকেসন, ইউএসএফডব্লিউএস / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farm and Dairy





মন্তব্য
(০)