রাস্তার পাশের দোকানে ঝালমুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, শিঙাড়া, পুরি, জিলাপি কিংবা আমড়া-পেয়ারা মাখা প্রায়ই পরিবেশন করা হয় কাগজের ঠোঙা বা পত্রিকার পাতায়। বাড়তি তেল শুষে নিতেও কাগজ ব্যবহার করা হয়। এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরটিভি অনলাইনকে পরামর্শ দিয়েছেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ।
তিনি বলেন, এসব কাগজে অপরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কালির ক্ষতিকর দিক আছে। হাতের স্পর্শ বা ঘষায় কালি উঠে আসে, আর পানি বা তেলে কাগজ ভিজলে কালির উপাদান সহজেই খাবারে মেশে। গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবার, যেমন শিঙাড়া, সমুচা, পরোটা, শসা, আমড়া বা আচার কাগজে রাখলে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
ডা. রাশেদের ব্যাখ্যায়, কাগজের কালিতে রঙ, প্রিজারভেটিভ ও দ্রাবক হিসেবে ন্যাফথাইলামাইনের মতো বিভিন্ন রাসায়নিক এবং ভারী ধাতু থাকতে পারে। দীর্ঘদিন এসব শরীরে গেলে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজননক্ষমতার সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। পুরোনো কাগজে থাকা জীবাণু পেটের অসুখের কারণও হতে পারে।
যাঁরা নিয়মিত দীর্ঘদিন কাগজের প্যাকেটে খাবার খান, তাঁরাই বেশি ঝুঁকিতে আছেন বলে জানান এই চিকিৎসক।
তবে কাগজের ব্যবহার পুরো বন্ধ করার কথা বলছেন না তিনি, কারণ কাগজ পরিবেশবান্ধব উপাদান। তাঁর পরামর্শ, খাদ্য-নিরাপত্তার মান (ফুড-গ্রেড) নিশ্চিত নয় এমন কাগজ ব্যবহার করা যাবে না; টিস্যু পেপার, পেপার টাওয়েল বা সাদা পরিষ্কার কাগজ চলতে পারে, তবে রঙিন টিস্যু নয়। খবরের কাগজ, হাতে লেখা বা ছাপা কাগজে কখনোই খাবার দেওয়া উচিত নয়। ক্রেতারা এমন কাগজ এড়িয়ে চললে বিক্রেতারাও এর ব্যবহার কমাবেন বলে মনে করেন তিনি।
প্রতিবেদনটি আরটিভি অনলাইনের।
ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আর টিভি অনলাইন




মন্তব্য
(০)