নেত্রকোনায় পাহাড়ি সোমেশ্বরী নদীর শাখা আত্রাখালী এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দখল আর বালু উত্তোলনের ধাক্কায় বালুচরে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫১ মিটার প্রশস্ত নদীটি একসময় খরস্রোতা ছিল, স্বচ্ছ পানিতে দেশি মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেই মাছ, নৌপথ আর নদীনির্ভর চাষ, সবই হারাতে বসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, সোমেশ্বরীতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু ও পাথর তোলার প্রভাব পড়েছে শাখা নদীগুলোতে। বালু পরিবহনের ট্রাকের রাস্তা বানাতে গিয়ে আত্রাখালীর উৎসমুখ পুরোপুরি আটকে দেওয়া হয়। এতে নাব্য হারিয়ে নদীটি ধীরে ধীরে বালু ও মাটির স্তূপে পরিণত হয়েছে।
একসময় এই নদী দিয়ে প্রতিদিন শত শত নৌকা আশপাশের উপজেলায় যাতায়াত করত। নদীসংলগ্ন শত শত হেক্টর জমিতে নদীর পানিতেই ফসল ও সবজি হতো। পানি না থাকায় এখন বহু জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে, সেচের অভাবে হতাশ কৃষকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়া জানান, ইজারার পর ড্রেজার দিয়ে ইচ্ছামতো বালু তোলায় নদীর পশ্চিম অংশের তলা অনেক গভীর হয়ে গেছে, আর পলি জমে বন্ধ হয়েছে স্বাভাবিক প্রবাহ। আগে পানি পশ্চিম থেকে পূর্বে বইত, এখন উল্টো দিকে নামে। দ্রুত পুনঃখনন ছাড়া নদীটি ফেরানো যাবে না বলে মনে করেন তিনি। জেলায় প্রায় ৯৫টি নদীর বেশির ভাগই নাব্য সংকট ও দখলে বিপন্ন।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলার প্রধান নদীগুলোর নাব্য ফেরাতে একটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং এর সুপারিশে কয়েকটি নদী ও খাল পুনঃখনন হবে। "নদীর উৎসমুখ কোনোভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না," বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় দ্রুতই নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু হবে এবং এক থেকে দুই মাসের মধ্যে কিছু দৃশ্যমান ফল দেখা যাবে। ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিবেদন দিলেই অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
ছবি: Saimon Chandra Shil (সোমেশ্বরী নদী, দুর্গাপুর) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)