গ্রিসের সাইক্লাডিক দ্বীপ নাক্সোসের আলু ২০১০ সাল থেকে সুরক্ষিত ভৌগোলিক নামের ফসল, অথচ প্রতিবছর তা ফলাচ্ছে কম মানুষ। ১৯৮০-র দশকে বার্ষিক উৎপাদন ১৫ হাজার টনে পৌঁছেছিল, যখন কৃষক পরিবারের সবাই এই ফসলে খাটতেন; আজ প্রায় ৩০০ পরিবার যুক্ত, উৎপাদন নেমেছে প্রায় ৫ হাজার টনে—ইউরোনিউজের 'ফুড ডিটেকটিভস' ধারাবাহিকের প্রতিবেদন।
দ্বীপের অন্যতম বড় চাষি ও Galanado Agricultural Cooperative (গালানাদো কৃষি সমবায়)-এর সভাপতি Stelios Vathrakokoilis (স্তেলিওস ভাথ্রাকোকিলিস) এই আলুর খ্যাতির পেছনে তিনটি কারণ দেখান: প্রায় সারা বছরের রোদ, চারদিকে তিন-চার কিলোমিটারের মধ্যে সমুদ্র, আর খেতে গোবরের ব্যবহার। সমবায় প্রথমে AB Vassilopoulos সুপারমার্কেট চেইনের মাধ্যমে নাক্সোস লেবেলে বিক্রি শুরু করে, পরে Sklavenitis ও অন্য সব চেইন—এখন পুরো ফসল সরাসরি সুপারমার্কেটের তাকে যায়।
সুরক্ষিত মর্যাদার অর্থ, নাক্সোস নাম বহন করতে হলে আলুকে সনদ পেতে হয়; তবু জালিয়াতি চলছে। ভাথ্রাকোকিলিসের কথায়, "কিছু লোক অন্য অঞ্চল, এমনকি অন্য মহাদেশ—বিশেষত মিসর—থেকে আলু কিনে প্যাকিং প্ল্যান্টে নিয়ে নাক্সোস আলু বলে প্যাকেট করে বেচে।" রাস্তার বাজারে অবস্থা আরও খারাপ: ৪০টি স্টল নাক্সোস আলু দাবি করলে হয়তো এক-দুটিতে আসলটা মেলে, কারণ এই নামে দাম বেশি পাওয়া যায়।
শ্রমিকই এখন সবচেয়ে বড় বাধা—বৈধভাবে কাজের অধিকার আছে এমন কর্মী পাওয়া কঠিন; আর বাড়তি বাসিন্দা, পর্যটক ও দীর্ঘ খরায় পানি ভাগ হচ্ছে আরও পাতলা করে—চাষিরা পৌরসভার লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টের দামি পানি কেনেন। "এক স্ত্রেমা জমি থেকে ডাচ কৃষকের পকেটে ১,৫০০ ইউরো, ইসরায়েলি কৃষকের ১,২০০ আর গ্রিক কৃষকের ৫০ ইউরো থাকা কোনো অর্থ বহন করে না," বলেন তিনি; তাঁর মতে চাষিরা এখনও দশকপুরোনো পদ্ধতিতে আটকে, হাইড্রোপনিক্স বা ছোট জায়গায় ভালো ব্যবস্থাপনার দিকে যাচ্ছেন না। লিটারে আড়াই ইউরোর ডিজেল, আকাশছোঁয়া সার ও বীজের দাম আর মাসে প্রায় ২,৫০০ ইউরো মজুরিতে "চাষ করতে গেলে পুরোপুরি লোকসানে ডুববেন"; পাঁচ-দশ বছরে "শুধু নাক্সোসে নয়, সারা গ্রিসে দূরবীন দিয়ে কৃষক খুঁজতে হবে।"
এ বছর শতবর্ষে পা দেওয়া Union of Agricultural Cooperatives of Naxos (নাক্সোস কৃষি সমবায় ইউনিয়ন) বলছে, তারা চাষিদের পাশে আছে। ইউনিয়নের সভাপতি Dimitris Kapounis (দিমিত্রিস কাপুনিস) বলেন, "নাক্সোস আলু স্রেফ আরেকটি পণ্য নয়। এটি এই জায়গার ইতিহাস, উৎপাদন, অর্থনীতি"; কাপোদিস্ত্রিয়াসের আমলের আগেই আলু এই দ্বীপে এসেছিল। ১২ সেপ্টেম্বর নাক্সোস বন্দরে ১৭তম আলু উৎসব হয় ইউনিয়নের শতবর্ষ উদ্যাপনের সঙ্গে; নিকিফোরোস মান্দিলারাস স্কয়ারে ৩ হাজারের বেশি মানুষ যোগ দেন।
ছবি: Bgabel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)