রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার হ্রদে দর্শনার্থীদের নৌকাভ্রমণের জন্য জেটি তৈরি হয়েছে, দুটি নৌকাও কেনা হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়েও নৌকা চলেনি। কর্তৃপক্ষ বলছে, নৌকার ইঞ্জিনের শব্দ বেশি, যা প্রাণীদের জন্য ভালো নয়। আর প্রাণিবিদেরা প্রশ্ন তুলছেন, চিড়িয়াখানার হ্রদে নৌকাভ্রমণের আয়োজন আদৌ যৌক্তিক কি না।
চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ লাখ টাকায় জেটি, সংযোগ সড়ক ও যাত্রীছাউনি নির্মাণ হয়েছে, আর দুটি নৌকা কেনা হয়েছে ১৭ লাখ টাকায়। নির্মাণ ও নৌকা পাওয়া, দুটিই শেষ হয় গত জুনে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মেলে ১৪ মে। প্রতিটি নৌকায় ২০ জন যাত্রী উঠতে পারবেন, ভাড়া হতে পারে জনপ্রতি ১০০ টাকা।
চিড়িয়াখানার পরিচালক মো. শাহিনুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, শব্দহীন এবং পানি দূষণ করবে না এমন ইঞ্জিনের খোঁজ চলছে, কয়েক জায়গায় খুঁজেও পাওয়া যায়নি। না পেলে কম শব্দের ইঞ্জিন লাগিয়ে নৌকাভ্রমণ চালুর কথা ভাবা হবে। কবে নাগাদ শুরু হবে, তা তিনি বলতে পারেননি।
১৮৬ দশমিক ৬৩ একরের চিড়িয়াখানাটি ১৯৭৪ সালে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর দুটি হ্রদ খনন হয় ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে; দক্ষিণ হ্রদ ৩২ একর, উত্তর হ্রদ ২৪ একর। উত্তর হ্রদে দুটি পেলিকান থাকায় সেখানে নৌকা চলবে না, ব্যবস্থা হয়েছে দক্ষিণ হ্রদে, শিশুপার্কের উল্টো দিকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান বলেন, 'জাতীয় চিড়িয়াখানার এই উদ্যোগ ভালো হয়নি। এটা অপসারণ করা উচিত।' তাঁর মতে, হ্রদের জলজ পরিবেশে কালিম, ডাহুকের মতো জলজ পাখি সংরক্ষণ করা যেত। নৌকা চললে শব্দ ও ভিড় বাড়বে, আশপাশের খাঁচার প্রাণীরা ভীত হবে।
অধ্যাপক ফিরোজ জামান মনে করিয়ে দেন, চিড়িয়াখানার হ্রদে একসময় অতিথি পাখি আসত, কারণ জায়গাটি সুরক্ষিত। পরিযায়ী পাখি এমনিতেই নিরাপদ জায়গা কম পায়; নৌকাভ্রমণ শুরু হলে ভবিষ্যতে সেখানে তাদের আসার সম্ভাবনা আরও কমবে। প্রতিবেদনটি করেছেন প্রথম আলোর প্রদীপ সরকার।
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)