ময়মনসিংহের নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে তোলা একেবারে কাঁচা, শক্ত সবুজ পেঁপে তিন-চার ঘণ্টার মধ্যেই টকটকে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃত্রিম উপায়ে পাকানো এই পেঁপে সরাসরি ঢাকার পাইকারি বাজারে যাচ্ছে আর বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চর বেতাগৈর ইউনিয়ন, চরশ্রীরামপুর ও আনন্দ বাজারসহ চরের বিভিন্ন বাগান থেকে পাইকারেরা প্রতি কেজি কাঁচা পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকায় কেনেন। পরে একটি ঘরে বা আড়তে স্তূপ করে শ্রমিকেরা প্রতিটি পেঁপে কাগজে মুড়ে ঝুড়ি ও বস্তায় ভরে ট্রাকে তোলেন। পাইকারদের ভাষ্য, কারওয়ান বাজারে পৌঁছাতে যে চার-পাঁচ ঘণ্টা লাগে, তার মধ্যেই পেঁপে পুরো পেকে যায়। অনেকের অভিযোগ, ১০-১২ টাকায় কেনা সেই পেঁপে রাজধানীতে বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।
চর বেতাগৈরের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহানের নিজের পেঁপে বাগান আছে, অন্য চাষিদের বাগানও চুক্তিতে কেনেন; সম্প্রতি ফলসহ ১৫০টি গাছের একটি বাগান কিনেছেন ৭০ হাজার টাকায়। কারওয়ান বাজারে বেশি দামে বিক্রির কথা স্বীকার করলেও রাসায়নিক দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, পত্রিকার কাগজে মুড়িয়ে রাখলে ভেতরের গরমেই পেঁপে পেকে যায়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরশ্রীরামপুরের কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, কাগজে মোড়ানোর ঠিক আগে স্প্রে মেশিনে এক ধরনের তরল রাসায়নিক ছিটানো হয়, আর একটি অসাধু চক্র এর সঙ্গে জড়িত।
নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামীমা সুলতানা বলেন, রাসায়নিকযুক্ত ফল খেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হয় এবং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা জানান, সব পেঁপেতে কার্বাইড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক লাগে না; গাছে নির্দিষ্ট সময় থেকে পরিপক্ক হওয়া পেঁপে কাগজে মুড়িয়ে রাখলে স্বাভাবিক তাপেই পাকে। নান্দাইলের চরের কাঁচা পেঁপে প্রাকৃতিকভাবে পাকছে, নাকি কৃত্রিমভাবে, তা খতিয়ে দেখা হবে, আর নিষিদ্ধ রাসায়নিকের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। খবরটি দিয়েছেন বাংলাদেশ টাইমসের প্রতিনিধি।
ছবি: Midori / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলাদেশ টাইমস





মন্তব্য
(০)