ভিয়েতনামের নিন বিন প্রদেশের একটি কৃষি সমবায় এমন যন্ত্র দিয়ে ধানের ফলন ২৮ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা একবারেই বীজ বোনে আর মাটির গভীরে সার দেয়; আর আলুর জমিতে দেয় যন্ত্রে তৈরি ধানের খড়ের কম্পোস্ট। আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্রের (সিআইপি) আয়োজনে কন্দ ফসল নিয়ে আঞ্চলিক কর্মশালার অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, চীন, ভারত, নেপাল ও ফিলিপাইনের ১৭ জন গবেষক সমবায়টি ঘুরে দেখেন।
নাম কুয়ং কৃষি উৎপাদন, ব্যবসা ও সেবা সমবায়ে প্রায় ১,৬০০ কৃষক পরিবার মিলে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি চাষ করে, যার ১৩০ হেক্টরে আলু। তাদের শস্যচক্রে আছে চার মাসের নাইট্রোজেন জোগানো চিনাবাদাম, তিন মাসের ধান, যার খড় যায় কম্পোস্টে, আর তিন মাসের আলু, যা আয়ের প্রধান উৎস। আলুতে হেক্টরপ্রতি নিট লাভ প্রায় ৪,৭৫০ মার্কিন ডলার, চিনাবাদামে ২,২২২ ডলার; ধান মূলত পরিবারের খাওয়ার জন্য।
আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) বিজ্ঞানী ড. এনগো ডুক থে যান্ত্রিক সরাসরি বীজ বপনের সঙ্গে গভীরে সার প্রয়োগ পদ্ধতির (এমডিএসআর-এফডিপি) ব্যাখ্যা দেন, যা যন্ত্রে চারা রোপণের বিকল্প। বাতাসের চাপে চলা বীজযন্ত্র বীজ রাখে মাটির ১-২ মিলিমিটার নিচে আর সার ৩-৪ সেন্টিমিটার গভীরে; এতে গাছ পুষ্টি বেশি নেয়, শিকড় সুস্থ থাকে, গাছ কম হেলে পড়ে। নাম কুয়ংয়ে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতায় ফলন হেক্টরে ৫.৬৫ টনে উঠেছে, আর প্রচলিত পদ্ধতির হেক্টরপ্রতি ৩১ লাখ ডং লোকসান বদলে হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ডং লাভ।
খড়ের কম্পোস্টেও যন্ত্র এসেছে। যন্ত্রে উল্টানো আর জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া মিলিয়ে পচনের সময় ৯০ দিন থেকে কমে ৪৫ দিন হয়েছে, মানও ভালো হয়েছে, তবে নিয়মিত মেশানো, প্রোবায়োটিক দেওয়া এবং তাপমাত্রা ও পিএইচ নজরে রাখা জরুরি। এই কম্পোস্ট আলু চাষে যায় সিআইপি, ইরি, সিজিআইএআরের স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) অর্থায়নে চলা ফার্টিলাইজ রাইট প্রকল্পের সঙ্গে তৈরি নির্ভুল পুষ্টি ব্যবস্থাপনা মডেলে। স্থানীয় ২০টি স্কুলের খাবার কর্মসূচিতে নিরাপদ জৈব পণ্য জোগানের লক্ষ্য রয়েছে সমবায়ের।
খাওয়ার আলু লাগানো হয় অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে, তোলা হয় জানুয়ারিতে, দেশের বাজার ছাড়াও কম্বোডিয়া ও লাওসে রপ্তানি হয়; এরপর জানুয়ারি থেকে মার্চ বীজ আলুর চাষ। বীজ রাখা হয় ৪০-৭০ টন ধারণক্ষমতার সাতটি সমবায়ভিত্তিক হিমাগারে, কোনো ক্ষতির খবর নেই; আগে নেদারল্যান্ডস থেকে আনলেও এখন জার্মানি থেকে হলুদ শাঁসের ইউরোপীয় জাত আমদানি করে সমবায়টি। সমবায়ের পরিচালক এনগুয়েন ভান ডু জানান, ধান-আলু ও ধান-আলু-চিনাবাদাম আবর্তনই পোকা ও রোগ ঠেকানোর মূল উপায়।
সফরটি সিজিআইএআর ক্যাপাসিটি শেয়ারিং অ্যাক্সিলারেটরের মাধ্যমে গড়া এশিয়া আঞ্চলিক কন্দ ফসল শিক্ষণ প্ল্যাটফর্মের অংশ; ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলা প্রথম ধাপে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমন পদ্ধতি নিজেদের দেশে মানিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজবে।
ছবি: ইরি ভিয়েতনাম
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)




মন্তব্য
(০)