গভীর চিন্তা, একঘেয়েমি বা মানসিক চাপের সময় অনেকে অজান্তেই দাঁত দিয়ে নখ কাটেন। বিজ্ঞানচিন্তায় আসহাবিল ইয়ামিন একাধিক গবেষণার বরাতে লিখেছেন, আপাত নির্দোষ এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে নানা শারীরিক ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন আমেরিকানের মধ্যে ২ থেকে ৩ জন নখ কামড়ান; বাংলাদেশে এমন কোনো পরিসংখ্যান নেই।
১৯৮৮ সালে জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজিতে পেনসিলভানিয়া ও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, হাতের অন্য অংশের চেয়ে নখের নিচে সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে: গড়ে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার, যেখানে হাতের অন্য অংশে প্রায় ৩৫৫। নখ কামড়ালে এসব জীবাণু, ধুলা ও ছত্রাক সরাসরি মুখে যায়।
২০০৭ সালে তুরস্কের আতাতুর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২৫ জন নখ কামড়ানো ও ৩৪ জন নখ না কামড়ানো মানুষের লালা পরীক্ষা করে দেখেন, প্রথম দলের ৭৬ শতাংশের মুখে ক্ষতিকর এন্টারোব্যাকটেরিয়াসি আছে, দ্বিতীয় দলে মাত্র ২৬.৫ শতাংশের। ২০১৭ সালের আরেক গবেষণায় ২০০টি লালার নমুনায় এই হার ছিল যথাক্রমে ৫৮ ও ১৬ শতাংশ।
২০২২ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিক হেলথে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, নিয়মিত নখ কামড়ালে নখ অস্বাভাবিক ছোট ও এবড়োখেবড়ো হয়, কিউটিকল নষ্ট হয়, নখের চারপাশে ঘা ও সূক্ষ্ম রক্তক্ষরণ হয়, নখ কালো বা ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। অনবরত নখ কামড়ানোয় দাঁত ক্ষয় ও মাড়ির টিস্যুর ক্ষতিও হয়।
লেখায় বলা হয়েছে, অনেকে মূলত নিজেকে শান্ত রাখতে নখ কামড়ান, তাই অভ্যাসটির পেছনের মানসিক চাপ বা অস্থিরতার দিকেও নজর দেওয়া দরকার; খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার মতো নখ পরিষ্কার ও ছোট রাখাও জীবাণু এড়ানোর সহজ উপায়।
ছবি: Aboghetto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তা





মন্তব্য
(০)