একসময় বর্ষা এলেই কুমিল্লার মুরাদনগরের নদী, খাল-বিল আর জলাশয়ে ঝাঁকি জাল ছুড়ে মাছ ধরতেন পেশাদার জেলে ও শৌখিন মাছশিকারিরা। গোমতী, তিতাস ও আর্সি নদীর অববাহিকার এ উপজেলায় সেই ঝাঁকি জাল এখন প্রায় অদৃশ্য। জলাশয় ভরাট আর দেশি মাছের তীব্র সংকটে অনেক জেলে বংশপরম্পরার পেশা ছেড়েছেন।
ঝাঁকি জালের সঙ্গে সাত-আট হাত লম্বা একটি সরু রশি বাঁধা থাকে, নিচের অংশে লোহা বা সিসার ছোট ওজন। পাড়ে দাঁড়িয়ে রশি হাতে রেখে জাল ছুড়লে তা দ্রুত তলিয়ে মাছ আটকে ফেলে; এতে পুঁটি, চিংড়ি, রুই, কাতলা, গ্লাসকার্প, শিংসহ নানা মাছ ধরা পড়ত।
অন্যদিকে খাল-বিল ও নদীতে বেড়েছে ছোট ফাঁসের ক্ষতিকর জালের ব্যবহার, বিশেষ করে ‘চায়না দুয়ারি’, যাকে কোথাও চায়না জাল, ম্যাজিক জাল বা ঢলুক জাল বলা হয়। এতে নানা প্রজাতির মাছের সঙ্গে পোনাও আটকা পড়ে। কম পরিশ্রমে বেশি মাছের আশায় জেলেদের একাংশ এই জালের দিকে ঝুঁকছে।
স্থানীয়দের মতে, আধুনিক জালের বিস্তার, জলাশয়দূষণ, নদীর নাব্যতা কমা এবং কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহারে দেশি মাছ কমছে, যার প্রভাব পড়েছে ঝাঁকি জালের ব্যবহারেও।
রামচন্দ্রপুর বাজারের মন্টু মিয়া বলেন, একসময় জাল ফেললেই মাছ পাওয়া যেত, এখন আর আগের মতো ওঠে না। ডুমুরিয়া গ্রামের জেলে নিখিল বর্মণ জানান, তিতাস নদীতে সারা দিন ঝাঁকি জাল ফেলে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মাছ মেলে, তাতে সংসার চলে না; এ জাল চালাতে শারীরিক শক্তিও লাগে। গাজীরহাটের জেলে স্বপন মিয়া বলেন, নানা আধুনিক জাল আসায় ঝাঁকি জালের ব্যবহার অনেক কমে গেছে।
প্রতিবেদন: সফিকুল ইসলাম, মুরাদনগর (কুমিল্লা)।
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)