মশা কোন কোন ভাইরাস বহন করছে, তা তাদের বর্জ্য পরীক্ষা করেই জানা সম্ভব বলে দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। এতে মশাবাহিত রোগের নজরদারি দ্রুত ও বিস্তৃত হতে পারে। মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক কীটতত্ত্ববিদ ডানা প্রাইস (Dana Price) মজা করে বলেন, তাঁরা আসলে মশার জন্য একটি শৌচাগার বানিয়েছেন।
যন্ত্রটি থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি একটি ফানেল, যার গায়ে পানি-বিকর্ষী প্রলেপ থাকায় ফোঁটাগুলো গড়িয়ে একটি নলে জমা হয়। ২০২১ ও ২০২২ সালে নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইকের একটি উঠান থেকে ধরা ৫০টি করে বুনো কিউলেক্স মশার দুটি দলকে ফানেলের ওপর রেখে চিনির দ্রবণ খাওয়ানো হয়, তারপর বর্জ্যের সব জিনগত উপাদান সিকোয়েন্স করা হয়।
২০২২ সালের নমুনায় মেলে অঞ্চলটিতে পরিচিত এনওয়াই০৭ ধরনের ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম। গবেষকেরা আমেরিকায় প্রথমবারের মতো হেডউইগ-সদৃশ একটি ভাইরাসের প্রমাণও পান, যা প্রথম ইউরোপে তুষার পেঁচার দেহে শনাক্ত হয়েছিল। সঙ্গে মিলেছে বিজ্ঞানের কাছে সম্ভবত নতুন কয়েকটি ভাইরাস ও পরজীবী, আর নিশ্চিত হয়েছে মশার প্রজাতি।
প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রচুর মশা ধরে, বাছাই করে, পিষে নির্দিষ্ট রোগজীবাণুর পরীক্ষা করতে হয়, যাতে প্রাদুর্ভাবের সময় দেরি হয়। প্রাইসের প্রশ্ন, কী খুঁজতে হবে তা না জানলে কী হবে? গবেষণাটি হেডউইগ-সদৃশ ভাইরাসকে হুমকি হিসেবে প্রমাণ করেনি; নিউ জার্সির বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে মৃত পাখির নমুনায় এখন তা খুঁজছেন প্রাইস।
ছবি: BARILLET-PORTAL David / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Morning Ag Clips





মন্তব্য
(০)