মঙ্গোলিয়ার স্তেপে ভোরের আগে গরুর দুধ দোয়ানোর সময় Otgo Dashdorj গান গান, সঙ্গে গান তাঁর স্বামীও। শান্ত গরু বেশি দুধ দেয়, ব্যাখ্যা করেন তিনি — আর খরা ও বাড়তে থাকা খরচ মঙ্গোলিয়ার দুগ্ধ খামারকে যেভাবে বদলে দিচ্ছে, তাতে গরুকে শান্ত রাখা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২ সেপ্টেম্বর তাঁর গল্প প্রকাশ করেছে।
Töv প্রদেশের ১,৭০০-র বেশি খামারির একজন Otgo, যাঁরা মঙ্গোলিয়ার প্রাচীনতম ও বৃহত্তম পানীয় উৎপাদকদের একটির অংশ APU Dairy-কে কাঁচা দুধ সরবরাহ করেন। ২৭ বছর তিনি ও তাঁর স্বামী ছিলেন যাযাবর পশুপালক। কঠোর শীত, শুষ্ক গ্রীষ্ম আর অতিচারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষয়ে যাওয়া তৃণভূমি বসন্তে ভালো চারণভূমি ও পানির নাগাল পাওয়া ক্রমশ কঠিন করে তুলছিল। তাই তিন বছর আগে তাঁরা থিতু হন, স্থায়ী অবকাঠামো গড়েন এবং এক জায়গা থেকেই সারা বছর পশুপাল সামলাতে শুরু করেন।
এখন তাঁদের পরিকল্পনা গরুর সংখ্যা দ্বিগুণ করে ৪০টি দুগ্ধবতী গরুতে নেওয়া এবং একটি পূর্ণ সরঞ্জামসজ্জিত ক্লাস্টার খামারে যাওয়া। মঙ্গোলিয়ায় ক্রমে জনপ্রিয় এই ব্যবস্থায় ছোট দুগ্ধ খামারিরা সম্পদ একত্র করেন এবং দুধ সংগ্রহ, শীতলীকরণ ও পশুচিকিৎসা সেবা ভাগ করে নেন, যাতে সারা বছর দুধ সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে।
এই রূপান্তরের পেছনে আছে এফএওর Investment Centre ও European Bank for Reconstruction and Development (EBRD)-এর একটি কর্মসূচি, যা কানাডা সরকারের অর্থায়নে High-Impact Partnership on Climate Action (HIPCA)-এর আওতায় APU Dairy ও Dairy Development Board of Mongolia-র সঙ্গে মিলে স্থানীয় দুগ্ধ খামারের দক্ষতা, টেকসইতা ও জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়াতে কাজ করছে।
"চার ঋতুর বদল আমাদের পশুপাল সামলানোর ঝুঁকি আর খরচ দুটোই বাড়ায়," বলেন Otgo, "কিন্তু শীতটাই সবচেয়ে কঠিন।" গত বছরের আগের বছর বরফ পৌঁছেছিল তাঁর বেড়ার মাথা পর্যন্ত। সেটাই ‘জুদ’ (dzud) — মঙ্গোলিয়ার একান্ত নিজস্ব ধীরগতির দুর্যোগ, যেখানে চরম ঠান্ডা, গভীর তুষার, ভেদ করা যায় না এমন বরফের আস্তরণ আর চারণভূমির অভাব একসঙ্গে আসে। ২০২৩–২০২৪ সালের জুদ, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম তীব্র, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে আনুমানিক ৮২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
এফএও-ইবিআরডি দল এফএওর OpenForis Arena Mobile মাঠ-তথ্য সংগ্রহ অ্যাপ দিয়ে বর্তমান দুধ উৎপাদন ব্যবস্থা ও তার পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ করেছে। সেই তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে টেকসইতা পরিমাপের একটি পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন ও যাচাই ব্যবস্থা, এফএওর তৈরি বিনিয়োগ নকশা, আর এফএওর Digital Service Portfolio-ভিত্তিক একটি ই-এক্সটেনশন অ্যাপ। খামারিরা এই অ্যাপে দুধ উৎপাদনের জন্য খাদ্যতালিকা তৈরির পরামর্শ পান, পান উচ্চমানের খাদ্য ও খরাসহিষ্ণু ঘাসের মতো কম-নিঃসরণ, জলবায়ু-স্মার্ট পদ্ধতির নির্দেশনাও, যা চারণভূমির ওপর চাপ কমায়। Dairy Development Board এখন খামারি ও পশুপালকদের জন্য সম্প্রসারণ সেবা চালায়; এর কর্মীরা জলবায়ু-স্মার্ট দুগ্ধ খামার ও দক্ষ পশুখাদ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
খামারটি তাঁরা তুলে দিতে চান ছেলের হাতে, যিনি একজন পশুচিকিৎসক — এফএওর ভাষায়, দুগ্ধ খামার যে পরের প্রজন্মের জন্যও একটি চলনসই জীবিকা হয়ে উঠছে, এ তারই লক্ষণ। ছেলের জন্য Otgo-র নিজের উত্তরাধিকার আরও সরল: "গরু শান্ত থাকলে দুধ বেশি হয়। আমরা ওদের সঙ্গে মানুষের মতো কথা বলি, গান শোনাই।" এফএও ২০২৬ সালকে আন্তর্জাতিক তৃণভূমি ও পশুপালক বর্ষ এবং আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ হিসেবে পালন করছে।
সূত্র: এফএও নিউজরুম। ছবি: ©EBRD





মন্তব্য
(০)